কিংবদন্তি চলচ্চিত্রকার আলমগীর কবিরের মৃত্যুর ৩০ বছর উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, ম্যুভিয়ানা ফিল্ম সোসাইটি ও বাংলাদেশ ফিল্ম স্কুল যৌথভাবে আয়োজন করে ‘আলমগীর কবির স্মরণ ও আলমগীর স্মৃতি বক্তৃতা’ এবং আলমগীর কবির নির্মিত চলচ্চিত্র ‘রূপালী সৈকতে’–র প্রদর্শনী। গতকাল রোববার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার সেমিনার কক্ষে এই আয়োজন করা হয়। আলমগীর কবির স্মৃতি বক্তৃতা দেন বরেণ্য চলচ্চিত্রকার ও লেখক তানভীর মোকাম্মেল। আলোচনায় অংশ নেন বরেণ্য নির্মাতা মোরশেদুল ইসলাম। আয়োজনটিতে সভাপতিত্ব করেন ম্যুভিয়ানা ফিল্ম সোসাইটির সভাপতি চলচ্চিত্র নির্মাতা ও লেখক বেলায়াত হোসেন মামুন। আলোচনা শেষে ‘রূপালী সৈকতে’ প্রদর্শিত হয়।

আলমগীর কবিরকে স্মরণ করে মোরশেদুল ইসলাম বলেন, ‘আলমগীর কবির আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা ছিলেন। তিনি আমাদের শিক্ষক ছিলেন। তিনি হাতে ধরে আমাদের শিখিয়েছেন কেমন করে আপসহীনভাবে পথ চলতে হয়। দেখতে দেখতে ৩০ বছর চলে গেল। এখনো সেই দিনটির প্রতিটি মুহূর্ত স্পষ্ট মনে আছে। ১৯৮৯ সালের ২০ জানুয়ারি যেই দিন আমরা আমাদের অভিভাবককে হারিয়েছি।’

‘আলমগীর স্মৃতি বক্তৃতা’র বক্তা তানভীর মোকাম্মেল আলমগীর কবিরের জীবন ও কর্ম বিশ্লেষণ করেন। তানভীর মোকাম্মেল বলেন, ‘আলমগীর কবিরকে পাঠ না করে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রকে পাঠ করা যাবে না। কারণ, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের যা কিছু নিরীক্ষা, চিন্তার নতুন দিগন্ত, তা আলমগীর কবিরের দেখানো পথেই চলেছে। আলমগীর কবির শতভাগ অসাম্প্রদায়িক ও আন্তর্জাতিক মানুষ ছিলেন। আমাদের দেশে শতভাগ অসাম্প্রদায়িক মানুষ পাওয়া খুব সহজ ব্যাপার নয়। আলমগীর কবির মানুষের মুক্তির জন্য আজীবন লড়াই করেছেন। তাঁর লড়াইয়ের ক্ষেত্রটি কখনো চলচ্চিত্র, কখনো সাংবাদিকতা, কখনো যুদ্ধে, কখনো সাংগঠনিক গুরুভার বহনের মধ্য দিয়ে বহমান ছিল। একাধারে এতটা ক্ষুরধার ব্যক্তিত্ব এবং কর্মমুখর মানুষ ইতিহাসে খুব বিরল। বিশ্ব চলচ্চিত্রের সঙ্গে আলমগীর কবিরের যে বোঝাপড়া, চলচ্চিত্রের ভাষার ওপর তাঁর যে দখল, তা অতুলনীয়। আমি, প্রয়াত বন্ধু তারেক মাসুদ ও মোরশেদুল ইসলাম যদি জীবনে কিছু করে থাকি, তা আলমগীর কবিরের কাছ থেকেই শেখা এবং দীক্ষার ফল।’

আলমগীর কবিরের প্রয়াণের ৩০ বছর উপলক্ষে ১৮ ও ১৯ জানুয়ারি ‘আলমগীর কবিরের চলচ্চিত্র ও চিন্তা অধ্যয়ন কর্মশালা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুই দিনের এই কর্মশালায় পাঠদান করেন চলচ্চিত্র সমালোচক ও লেখক মাহমুদুল হোসেন। কর্মশালা সমন্বয় করেন বেলায়াত হোসেন মামুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here