বর্তমান ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকারে। ডিজিটাল প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে ২০২১ সালের মধ্যে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠা করা আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধান অঙ্গীকার। সে লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। এবার আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল বাংলাদেশ।

বঙ্গবন্ধুকন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ (২২ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ই-পাসপোর্ট বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বে ১১৯তম দেশ হিসেবে ই-পাসপোর্ট চালু করলো বাংলাদেশ।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী সর্বপ্রথম ই-পাসপোর্ট পাবেন। উদ্বোধনী দিনেই তাদের হাতে ই-পাসপোর্ট তুলে দেয়া হবে বলে জানা গেছে। এজন্য ইতোমধ্যে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি, ডিজিটাল স্বাক্ষর, আইরিস ও আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘ই-পাসপোর্ট সিস্টেম সরকারের চলমান ডিজিটাইজেশন প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এক্ষেত্রে জনগণ সহজ পদ্ধতিতে সেবা পাবে এবং বিদেশে দেশের ভাবমূর্তি সমুন্নত হবে।

প্রথম ধাপে দেশের তিন স্থান থেকে ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এ বিষয়ে অভিবাসন ও পাসপোর্ট অধিদফতর (ডিপিআই) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদ বলেন, প্রথম ধাপে রাজধানীর আগারগাঁও, উত্তরা ও যাত্রাবাড়ী পাসপোর্ট কার্যালয় থেকে ই-পাসপোর্ট দেয়া হবে। পরে ধাপে ধাপে সারাদেশের পাসপোর্ট কার্যালয় থেকে ই-পাসপোর্ট দেয়া হবে।

বাংলাদেশে দুই ধরনের ই-পাসপোর্ট দেয়া হবে। একটি ৪৮ পাতার, অন্যটি ৬৪ পাতার। সাধারণ, জরুরি ও অতি জরুরির জন্য তিন ধরনের ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।

৪৮ পৃষ্ঠার পাঁচ বছর মেয়াদি সাধারণ পাসপোর্টের ফি ৩৫০০ টাকা, জরুরি পাঁচ হাজার ৫০০ টাকা এবং অতি জরুরি সাড়ে সাত হাজার টাকা ফি দিতে হবে। এছাড়া ৪৮ পৃষ্ঠার ১০ বছর মেয়াদের ক্ষেত্রে সাধারণ, জরুরি ও অতি জরুরি ফি যথাক্রমে পাঁচ হাজার, সাত হাজার ও নয় হাজার টাকা।

একইভাবে ৬৪ পৃষ্ঠার পাঁচ বছর মেয়াদি সাধারণ পাসপোর্টের ক্ষেত্রে পাঁচ হাজার ৫০০ টাকা, জরুরি সাত হাজার ৫০০ এবং অতি জরুরি বাবদ ১০ হাজার ৫০০ টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ৬৪ পৃষ্ঠার ১০ বছর মেয়াদের ক্ষেত্রে সাধারণ, জরুরি ও অতি জরুরি ফি যথাক্রমে সাত হাজার, নয় হাজার ও ১২ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সাধারণ পাসপোর্ট ও ই-পাসপোর্টের মধ্যে পার্থক্য হলো, এতে মোবাইল ফোনের সিমের মতো ছোট ও পাতলা আকারের ইলেকট্রনিক মাইক্রোপ্রসেসর চিপ যুক্ত থাকবে। এ চিপ পাসপোর্টের একটি বিশেষ পাতার ভেতরে স্থাপন করা থাকবে। ফলে পাতাটি সাধারণ পাতার চেয়ে একটু মোটা হবে। চিপে সংরক্ষিত বায়োমেট্রিক তথ্য বিশ্লেষণ করে পাসপোর্ট বহনকারীর পরিচয় শনাক্ত করা যাবে।

ই-পাসপোর্ট চালু হওয়ায় একজনের নাম-পরিচয় ব্যবহার করে অন্য কেউ আর পাসপোর্ট করতে পারবে না। ফলে পাসপোর্ট নকল হওয়ার আশঙ্কাও থাকবে না। সাধারণ পাসপোর্টের তুলনায় ই-পাসপোর্টে নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যও বেশি। এতে ৩৮ ধরনের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যের মধ্যে অনেকগুলো লুকায়িত অবস্থায় থাকবে।

উল্লেখ্য, ২০০৯ সাল থেকে দেশে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট বিতরণ শুরু হয়। ২০১৬ সালের ২৪ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ই-পাসপোর্ট প্রদানের ঘোষণা দেন। এজন্য জার্মানির প্রতিষ্ঠান ভেরিডসের সঙ্গে চুক্তি করে বহির্গমন ও পাসপোর্ট অধিদফতর।

চুক্তি অনুযায়ী তিন কোটি ই-পাসপোর্ট সরবরাহ করবে প্রতিষ্ঠানটি। যার মধ্যে ২০ লাখ জার্মানিতে তৈরি এবং বাকি দুই কোটি ৮০ লাখ পাসপোর্ট বই মুদ্রণের জন্য কাঁচামাল সরবরাহ করবে। ই-পাসপোর্ট বই ছাপার যন্ত্রপাতি স্থাপনের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here