স্কুলছাত্রীকে মারধর ও শ্লীলতাহানি ঘটনায় তিন দিনেও মামলা নেয়নি বাউফল থানার পুলিশ। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ওই পরীক্ষার্থী বাদী হয়ে ৮ সজনকে আসামী করে বাউফল থানায় একটি অভিযোগ এজাহার হিসেবে তুলে ধরেন।

বাউফলের আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের মাদবপুর নিশিকান্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী সুখি আক্তারকে (১৬) একই গ্রামের চান মিয়া চৌকিদার নামের এক অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যর বখাটে পুত্র বেল্লাল হোসেন ওরফে উজ্জ¦ল চৌকিদার ও ইউছুফ হাওলাদারের ছেলে মনির হোসেন বিদ্যালয়ে আসা যাওয়ার পথে উত্যক্ত করত। গত ২ ফেব্রুয়ারি ওই ছাত্রী নওমালা কেন্দ্র থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে উজ্জ্বল চৌকিদার তাকে কুপ্রস্তাব দেয়। এতে ওই ছাত্রীটি রাজি না হলে তাকে দেখে নেয়ার হুমকি দেয়া হয়। ঘটনার দিন ৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৭টার দিকে ওই ছাত্রীটি তার ঘরের বারান্দায় বসে পড়াশুনা করছিল।

এ সময় উজ্জ্বল চৌকিদার ও মনির হোসেন ঘরের মধ্যে ঢুকে ওই ছাত্রীকে তুলে নেয়ার উদ্দেশে টানা হেচরা করতে থাকলে তার ডাক-চিৎকারে মা-বাব া দুই ভাই ও এক বোন এগিয়ে আসলে তাকেসহ বেদরক মারধর করে। একপর্যায়ে তারা ওই ছাত্রীটির পরনের সেলোয়ার খুলে শরীরের লজ্জাস্থানে হাত দেয়। ওই রাতেই আহতদের বাউফল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

স্কুলছাত্রীটি স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন- এ ঘটনার পর বখাটে উজ্জ্বল চৌকিদার বগা তদন্ত কেন্দ্রে খবর দিয়ে পুলিশ এনে তার নিরাপরাধ দুই ভাই মহাসিন ও পারভেজ খানকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পুলিশ তার দুই ভাইকে ওই রাতে বগা তদন্ত কেন্দ্রে আটকে রেখে পরের দিন ৯ ফেব্রুয়ারি সকালে বাউফল থানায় নিয়ে যায়।

সেখানে তাদেরসহ আরও ৭ জনকে আসামী করে একই এলাকার মনির হোসেন নামের এক ব্যক্তি বাদী হয়ে থানায় একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। (মামলা নম্বর ১১ তারিখ-৯/২/১৯) ওই মামলায় তার দুই ভাইকে পুলিশ পটুয়াখালী কারাগারে পাঠিয়েছে।

বাউফল হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে তিনি গত ১৫ জুলাই বাউফল থানায় শ্লীলতাহানি ও মারধরের অভিযোগ এনে জড়িতদের বিরুদ্ধে একটি এজাহার দাখিল করলেও রহস্যজনক কারণে এখন পর্যন্ত মামলা হিসাবে রজু করা হয়নি। বরং হামলাকালীদের সাথে মিলেমিশে যাওয়ার জন্য পুলিশ পরামর্শ দিয়েছে।

এদিকে এ ঘটনা নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে পরিণতি ভাল হবে না বলে হামলাকারীর ওই ছাত্রীর পরিবারকে হুমকি দিয়েছে। এ ছাড়াও তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হলে বাড়ির ঘর জ্বালিয়ে দেয়া হবে বলে হুমকি দেয়া হয়। স্কুলছাত্রীটির পরিবার বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে।’

এ ব্যাপারে বাউফল থানার (ওসি-তদন্ত) মাকসুদ আহম্মেদ মুরাদ সাংবাদিকদের বলেন, এজাহার পেয়েছি। খোঁজ-খবর নিয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here