ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয়ে প্রতারণার দায়ে মাত্র এক মাস আগেই জেলে গিয়েছিলেন মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া। কিন্তু জেল থেকে বেরিয়ে আবারও একই কায়দায় প্রতারণা শুরু করেন তিনি। তবে এবারও তার জায়গা হলো শ্রীঘরে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার ভুশ্চি বাজারে গিয়ে নিজেকে ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দিয়ে এক পল্লী চিকিৎসকের কাছে ঘুষ চান মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া। এসময় জনতা তাকে মারধর করে পুলিশে সোপর্দ করে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে জেলহাজতে পাঠায়।

লালমাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক কে এম ইয়াসির আরাফাত এই দণ্ড দেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত ভুয়া ম্যাজিস্ট্রেট মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া উপজেলার বাকই উত্তর ইউনিয়নের শিকারীপাড়া গ্রামের আমির হোসেন ভূঁইয়ার ছেলে।

এর আগে গত ১৩ মে জেলার দেবিদ্বারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রবিন্দ্র চাকমা একই অপরাধে তাকে ৭ দিনের কারাদণ্ড দিয়েছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে ভুশ্চি বাজারস্থ রেদোয়ান মেডিকেল হলে গিয়ে নিজেকে ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দেন মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া। এসময় তিনি ওই মেডিকেল হলের মালিক পল্লী চিকিৎসক রেদোয়ানুর রহমানের শিক্ষাগত যোগ্যতাসহ তার চিকিৎসাসেবা দেয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেন। এক পর্যায়ে তিনি রেদোয়ানুরের কাছে ঘুষ দাবি করেন। এতে বাজারের ব্যবসায়ী ও উৎসুক জনতা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে মারধর করে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করে।

পরে তাকে লালমাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কে এম ইয়াসির আরাফাতের কার্যালয়ে হাজির করা হয়। এসময় ভ্রাম্যমাণ আদালত মোতালেব হোসেন ভূঁইয়ার স্বীকারোক্তি এবং ভুক্তভোগী, সাক্ষী ও পুলিশের বক্তব্য শুনে তাকে তিনি মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।

ভুশ্চি বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ তোফাজ্জল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে লালমাই উপজেলার আজবপুরে তৃতীয় শ্রেণির এক শিশু শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে একই ভ্রাম্যমাণ আদালত সফিক মিয়া ওরফে মনু মিয়া নামের এক বখাটেকে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here