বিনা অনুমতিতে অন্য সংগঠনের ক্রেস্ট ও ছবি ব্যবহার করে ডিজিটাল জালিয়াতির অভিযোগে অভিযুক্ত সেই বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষার্থী শাহবাজ মিঞা শোভনের বিরুদ্ধে এবার আরো চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে মানবজমিন। অভিযুক্ত শিক্ষার্থী কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল (সিএসই) বিভাগে অধ্যয়ণরত।
গত ৬ই জুন মানবজমিনে ‘ববি শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ডিজিটাল জালিয়াতির অভিযোগ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি সকলের সামনে আসে এবং একে একে সবাই মুখ খুলতে শুরু করেছেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে মধ্যরাতে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার মতো গুরুতর ঘটনার একটি অভিযোগ বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কাছে।
অভিযুক্ত ওই শিক্ষার্থী সবসময় নিজেকে ‘জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড-২০২০ প্রাপ্ত সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি দাবি করলেও বাস্তবে ঐ সংগঠন জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড পাননি। বর্তমানেও তিনি জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্ত বলে সর্বমহলে প্রচার করলেও বাস্তবতা ভিন্ন।

১৭ই নভেম্বর ২০২০ প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় ‘জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড-২০২০’ এর বিজয়ী হিসেবে ৩০টি সংগঠনের নাম ঘোষণা করে যেখানে ঐ শিক্ষার্থীর সংগঠন জাগ্রত তারুণ্যের নাম নেই। এছাড়া অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্তির ক্ষেত্রে তিনি যে সকল কর্মকা-ের ছবি দিয়েছেন তা নিয়েও আছে ধোঁয়াশা।
এর আগে গত ১৬ই নভেম্বর ২০২০ ইয়াং বাংলা কর্তৃক  প্রায় ৬০০ টি আবেদনকারী সংগঠন থেকে  ৪৭ জন ফাইনালিস্টের সংগঠনের নাম ঘোষণা করে এবং সেখান থেকেই পরবর্তীতে বিভিন্ন ক্যাটাগরি ও সাব ক্যাটাগরিতে ৩০টি সংগঠনকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। ফাইনালিস্টের তালিকায় ৪৪তম অবস্থানে ছিলো জাগ্রত তারুণ্য।

ফলে তিনি  বিজয়ীদের নাম ঘোষণার ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের সুযোগ পান। সেই ছবি ব্যবহার করে ওই শিক্ষার্থী সর্বমহলে জয় বাংলা ইয়ূথ অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্ত বলে প্রচার করছেন।
এ বিষয়ে সেন্টার ফর রিসার্চ এন্ড ইনফরমেশন (সিআরআই) এর সমন্বয়ক তন্ময় আহমেদ বলেন, ‘টপ ফিফটির মধ্যে থাকলেই যে অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্ত সেটা বলা যাবে না। তবে তারা কোন না কোনভাবেই ইয়াং বাংলার সাথে কানেক্টেড যার জন্য বিভিন্ন সময় প্রোগ্রামে ডাকা হয়। তার মানে এই না যে তারা অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্ত। যদি বিজয়ী না হয়ে কেউ দাবি করে থাকে অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্ত তবে সেটা অবশ্যই ভুল।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ মডেল ইয়ুথ পার্লামেন্ট ( প্রতীকি যুব সংসদ ) প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারপার্সন মো. আমিনুল ইসলাম (ফিরোজ মোস্তফা) বলেন, ‘জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড এর জন্য ২০২০ সালে ৩০টি সংগঠনকে জয়বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী  করে এবং ৪৭ টি সংগঠন কে অ্যাওয়ার্ডের জন্য টপ ফাইনালিস্ট নির্বাচিত করা হয়। আমার জানামতে, জাগ্রত তারুণ্য টপ ফাইনালিস্ট এ ৪৪ নম্বরে ছিলো। জাগ্রত তারুণ্যকে জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ডে অংশ নিতে আমি সব ধরনের পরামর্শ দিয়েছিলাম। তাদের যে কোন ইতিবাচক কাজে আমরা অবশ্যই খুশি। কিন্তু তাই বলে তারা নেতিবাচক কোন কাজের সাথে যুক্ত হলে আমরা যারা যুব সংগঠন করি তারা কেউ সাপোর্ট করবো না।  শোভন ও শাহেদ দুই ভাইকে আমি ব্যক্তিগত ভাবে চিনি, তারা কেন এমনটি করছে তা আপনার কাছ থেকে শুনে আমি বিব্রত বোধ করছি। কারণ আমাদের নেটওয়ার্ক ইয়ুথ নেট ফর ক্লাইমেট জাস্টিস ২০১৮ সালে জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড অর্জন করে ।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শাহবাজ মিঞা শোভনের সাথে কথা হলে তিনি সিআরআই (সেন্টার ফর রিসার্চ এন্ড ম্যানেজমেন্ট) এবং ইয়াং বাংলায় ভালোভাবে খোঁজ নিতে বলেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here