বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুদ্ধি অভিযানের মাধ্যমে দেশ থেকে সকল অপকর্ম দূর করার জন্য বিরামহীন কাজ করে চলছেন। তিনি শক্ত হাতে সংগঠনের হাল ধরেছেন। তাঁর আত্মীয়দেরও কোন ছাড় দিচ্ছেন না। তাঁর আদর্শের একজন অনুসারী হয়ে আমিও আমার পরিবারের কাউকে কোন ধরনের ছাড় না দেয়ার মানষিকতা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি।

মেয়র বৃহস্পতিবার বিকেলে নগরীর জিয়া সড়ক মদিনা মসজিদ এলাকায় অনুষ্ঠিত ২২ ও ২৭ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির দেয়া বক্তব্যে একথা বলেন।

মেয়র বলেন, আমি মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার আগেই এ নগরী থেকে যাত্রা, জুয়া ও হাউজি বন্ধ করে দিয়েছি। আগের মেয়রের সময় প্রতি মাসে গাড়ির তেলের বিল করা হতো ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকা সেই বিল আমি দায়িত্ব গ্রহণের পর মাত্র ৪লাখ টাকায় নিয়ে এসেছি। এমনকি আমার সিটি কর্পোরেশনে প্রথম পর্যায়ে আমাকে এবং যেকোনো অতিথি আপ্যায়নের জন্য যে আপেল কেনা হতো তার প্রতিটি আপেলের দাম তারা ভাউচার করতো ৩৫টাকা। আমি দায়িত্ব গ্রহণের পর সিটি কর্পোরেশন থেকে দূর্নীতি মুক্ত করেছি।

তিনি আরো বলেন, বিএনপি মিথ্যার উপর ভড় করে রাজনীতি করে একথা উল্লেখ করে মেয়র বলেন, যারা আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারী তারাও আজকে বিএনপির মতো মিথ্যাচারের রাজনীতি শুরু করেছে। ওই সকল হাইব্রিডরা অনেক আগে থেকেই নানা মিথ্যা প্রচারনা চালিয়ে আসছে। সকলের মানষিকতা পরিবর্তন হওয়া দরকার। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে আমাদের মানুষের মতো মানুষ হয়ে কাজ করতে হবে। মেয়র বলেন, আমার কোন চাওয়া পাওয়া নাই। কে কি আমাকে নিয়ে বললো আমি তা মাথায় নেইনা। বরিশালের জনগন আমাকে নিয়ে কি বললো সেটাই আমার কাছে মুখ্য।

কোন জরিপে আমাকে শ্রেষ্ঠ মেয়র বানানো হলো সেটাও আমার কাছে প্রধান বিষয় না, জনগন আমাকে কিভাবে মূল্যায়িত করছেন সেটাই মূখ্য আমার কাছে। আমি মনে করি একজন শিক্ষিত ক্রিমিনালের থেকে একজন অশিক্ষিত মুক্তিযোদ্ধা অনেক ভালো। তিনি বলেন, আমি জোর দিয়ে বলতে পারি আমি কোন দূর্নীতি করিনাই। আগে বরিশালে যে লুটপাটের ধারা চলে আসছিল তা আমি বন্ধ করেছি মাত্র। আমার কোন সম্পত্তি নাই। জনগনের ভালবাসাই আমার সম্পদ। জনগনই আমার ব্যাংক ব্যালেন্স। আমার ব্যক্তিগত কোন লোক নেই। জনগনই আমার আর আমি জনগনের লোক। আগামীতে স্বচ্ছ না থাকলে রাজনীতিতে টিকে থাকা মুশকিল হয়ে যাবে।

নিজের গত এক বছরের কাজের বিষয়ে মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ বলেন, আমি জনগনের চাহিদা অনুযায়ী দৃশ্যমান কোন উন্নয়ন কাজ করতে পারি নাই এটা হয়তো ঠিক। তবে আমি জবাবদিহীতা সৃষ্টির মধ্য দিয়ে নগর ভবন থেকে চুরি ও ঘুষ বন্ধ করতে পেরেছি। জনগনের টাকা মেরে খাওয়ার জন্য আমি মেয়রের দায়িত্ব নেইনি। আমি কারো কাছ থেকে কোন অনৈতিক সুবিধা নেইনা। আমি ৫ বছরের গ্যারান্টি দিয়ে নগরীর সব রাস্তার কাজ করে দেবো।

২২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের আহবায়ক আব্দুল হালিম খানের সভাপতিত্বে সম্মেলনে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক এ্যাড. একেএম জাহাঙ্গীর। বিশেষ অতিথি ছিলেন, মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সাইদুর রহমান রিন্টু। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র গাজী নঈমুল হোসেন লিটু। সম্মেলনে বরিশাল মহানগর, ওয়ার্ড ও স্থানীয় পর্যায়ের আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও দল সমর্থিত কাউন্সিলররা উপস্থিত ছিলেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here