গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী শ. ম. রেজাউল করিম বলেছেন, সমাজে ধনী হওয়ার একটা অসুস্থ প্রতিযোগিতা চালু হয়েছে। এটি বিপর্যয় ঘটাচ্ছে। তাই হঠাৎ করে উত্থানওয়ালাদের দুর্নীতি খতিয়ে সমাজের কাছে তুলে ধরুন। এতে করে মানুষ তাদের অন্তত ঘৃণা করবে।

সংবাদিকদের উদ্দেশ্যে করে মন্ত্রী বলেন দুর্নীতির নিউজ বেশি বেশি করুন। এ ক্ষেত্রে আমি (মন্ত্রী) যদি দুর্নীতি করি, আমার বিরুদ্ধেও নিউজ করুন।

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের ‘রূপসী বাংলা’ শীর্ষক ফটো প্রদর্শনী ও প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি গোলাম মোস্তাফার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাইফুল আলম, সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন, বিটিভির সাবেক পরিচালক, ফটো প্রদর্শনী ও প্রতিযোগিতার বিচারক গোলাম মোস্তাফা, সংগঠনটির উপদেষ্টা এনায়েত করিম এবং সাধারণ সম্পাদক কাজল হাজরা প্রমুখ।

শ. ম. রেজাউল করিম বলেন, সমাজ ব্যবস্থায় একটি পচন ধরেছে। মানুষের নৈতিক অবক্ষয় ঘটেছে। তারা দাফতরিক দায়িত্ব পেয়েই রাতারাতি কোটিপতি হতে ব্যস্ত। এ জন্য তারা সমাজ ব্যবস্থাকে ধংস করে দিচ্ছে। এটি আসলে সঠিক নয়। এসব বিষয়ে সোচ্চার হতে হবে। মানুষরূপী মানুষগুলো অমানবিক আচরণ করছে। তা সমাজের কাছে তুলে ধরতে হবে।

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, আমি দায়িত্ব নেয়ার পর ৯২ জন কর্মকর্তার অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি। তাদের দুদকে দিয়েছি। রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের বাসিশকাণ্ডের তদন্ত হয়েছে। ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আমার মন্ত্রণালয়ে কেউ দুর্নীতি করলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।

থ্যাকসলেস পেশা সাংবাদিকতা উল্লেখ করে রেজাউল করিম বলেন, এ পেশায় কেউ ভালো কিছু করছে, তার কোনো বন্ধু থাকে না। কারণ, যার বিরুদ্ধে নিউজ করে সে অপরাধি হলেও পত্রিকায় নিউজ হওয়া মেনে নেয় না।

ফটো জার্নালিস্টদের স্বচ্ছ গ্লাস উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সংবাদ পত্রিকায় অনেক খবর আসে জানা গেছে, সূত্র বলছেন দিয়ে। অনেক সময় ভুল তথ্যও আসে। কিন্তু একটি ছবি একটা স্বচ্ছ গ্লাসের মতো তথ্য দেয়।

সাংবাদিকদের নির্ভুল বস্তুনিষ্ট সংবাদ সমাজের মানুষের কাছে তুলে ধরারও আহ্বান জানান তিনি।

প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাইফুল আলম বলেন, মানুষের কর্মের জন্য মরণোত্তর সম্মাননা চেয়ে জীবিতদের স্বীকৃতি দেয়া ভালো। কারণ, জীবিতরা সম্মান পেলে তারা কর্মে উৎসাহ পাবে। তাই আগামীর সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য মরণোত্তর সম্মাননার পাশাপাশি জীবিতদের স্বীকৃতি দেয়া বেশি প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে আটজন ফটো জার্নালিস্টকে পুরস্কৃত করা হয়। এর মধ্যে বিশেষ জুরি অ্যাওয়ার্ড পান ফটো জার্নালিস্ট শরীফ সারোওয়ার। এ ছাড়া প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরস্কার পান ইংরেজি দৈনিক নিউ এজে র ফটো জার্নালিস্ট আবদুল্লাহ অপু, জাকির হোসেন চৌধুরী, বর্ণিক বার্তার শেখ সোহেল আহমেদ।

বিশেষ পুরস্কার পান বিডি নিউজের আসিফ মাহমুদ অভি, দৈনিক আমাদের সময়ের আল আমিন লিয়ন, ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের শফিকুল আলম এবং সমকালের সাজ্জাদ মাহমুদ নয়ন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here