জেলা করেসপন্ডেন্টঃ কোরবানির চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণে ব্যবহৃত লবণের পর্যাপ্ত মজুদ থাকার পরও এক শ্রেণির অসাধু মিল মালিক সংকট তৈরি করে লবণ আমদানির পাঁয়তারা চালাচ্ছে। এমন অভিযোগ লবণ চাষি ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের।

তবে মিল মালিকরা বিষয়টি সম্পুর্ণভাবে অস্বীকার করেন। এ অবস্থায় লবণ চাষি কল্যাণ পরিষদ, উপকূলের চাষিদের বাঁচাতে লবণ আমদানির অপচেষ্টা বন্ধের দাবি জানিয়েছে।

কক্সবাজারের উপকূলবর্তী এলাকা লবণ উৎপাদনের মাঠ। হাজার হাজার একর জমিতে চাষিরা সমুদ্রের লবণাক্ত পানি জমিয়ে সূর্যের তাপে ৩ থেকে ৪ দিন কড়া রোদে পানি শুকিয়ে তৈরি করেন লবণ। কক্সবাজার ও বাঁশখালীর ৬০ হাজার একর জমিতে ৫৫ হাজারের বেশি চাষি মাথার ঘাম পায়ে ফেলে দেশের চাহিদা মেটাতে উৎপাদন করে থাকে লবণ।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) সূত্রে জানা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরের লবণ মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশী রেকর্ড পরিমান অর্থাৎ ১৮.২৪ লক্ষ মে.টন লবণ উৎপাদন হয়েছে।

গত ৩১ জুলাই ২০১৯ ইং তারিখ পর্যন্ত দেশে লবণের মজুদের পরিমান ৮.৮৭ লক্ষ মে. টন। বর্তমানে চাহিদার চেয়ে অনেক বেশি লবণ মজুদ রয়েছে।

লবন চাষিদের অভিযোগ, মাঠ পর্যায়ে চাষিদের কাছে স্বল্পমূল্যে লবণ ক্রয় করে অধিক মুনাফা করছে মিল মালিকরা। তবুও দেশে পর্যাপ্ত মজুদ থাকার পরও সংকট তৈরি করে আমদানির পাঁয়তারা চালাচ্ছে এক শ্রেণির অসাধু মিল মালিক।

এক লবণচাষী জানান, ‘কেজিপ্রতি আমরা লবনের মূল্য পাচ্ছি ৭ টাকা। আর পাশ্ববর্তী দেম ভারত থেকে আনলে তাদের খরচ পড়ে ২-৩ টার কম। কিন্তু তাদের লবন নিম্নমানের হওয়ার সত্বেও বেশি মুনফার আশায় অসাধু ব্যবসায়ীরা আমদানির ষড়যন্ত্র করছে। ফলে দেশের লবণ চাষিরাও ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

আরেকজন জানান, ‘যারা বড় বড় মিলার আছেন, তারা কেজি প্রতি ৪০-৪৫ টাকা দরে লবণ বিক্রি করে। দেশে চাহিদা অনুযায়ী প্রচুর পরিমাণ লবণ উৎপাদন হওয়ার পরও তারা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে লবণ আমদানি করতে চাচ্ছে।’

তবে মিল মালিকরা বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করে দায় চাপালেন মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর। এ অবস্থায় উপকূলের চাষিদের বাঁচাতে লবণ আমদানি বন্ধ করার দাবি জানালেন লবণ চাষি কল্যাণ পরিষদের নেতা।

এ বিষয়ে জানতে চাইরে বরিশাল বিসিকের উপ-মহাব্যবস্থাপক (অঃ দাঃ) মো. জালিস মাহামুদ জানান, বর্তমানে চাহিদার চেয়ে অনেক বেশি লবণ মজুদ রয়েছে। তবুও এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীরা লবণ ঘাটতি সংক্রান্ত বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে। এছাড়া বিসিক চেয়ারম্যান মহোদয়ের নির্দেশক্রমে সারাদেশে জরুরি নোর্টিস জারি করা হয়েছে যেন কেউ লবণ সংকট সংক্রান্ত বিভ্রান্তি ছড়িয়ে ফায়দা লুটতে না পাড়ে।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) এর জরুরি নোর্টিসে বলা হয়।

বিসিকের সকল শিল্প সহায়ক কেন্দ্র প্রধানের অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য জানানো যাচ্ছে যে, লবণ চাষীদের অক্লান্ত পরিশ্রম এবং সরকারের সার্বিক সহায়তার ফলে লবণ উৎপাদনে এ বছর বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে সক্ষম হয়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের লবণ মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশী রেকর্ড পরিমান অর্থাৎ ১৮.২৪ লক্ষ মে.টন লবণ উৎপাদন হয়েছে।

গত ৩১/০৭/২০১৯ তারিখ পর্যন্ত দেশে লবণের মজুদের পরিমান ৮.৮৭ লক্ষ মে. টন। বর্তমানে চাহিদার চেয়ে অনেক বেশি লবণ মজুদ রয়েছে, তথাপিও একটি মহল লবণ ঘাটতি সংক্রান্ত বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে। সেই সাথে সম্মানীত লবণ ব্যবসায়ীগণকে লবণ ক্রয় সংক্রান্ত যে কোন প্রয়োজনে বিসিকের উপ-মহাব্যবস্থাপকের কার্যালয়, লবণ শিল্পের উন্নয়ন কর্মসুচি, মোটেল রোড, কক্সবাজার-এর সাথে মোবাইল নং ০১৭৩৩-৭০৭২১৭ এবং টেলিফোন নং ০৩৪-১৬৩৫৪০ তে) অবস্থিত বিসিকের লবণ শিল্পের উন্নয়ন কার্যক্রম কার্যালয়ের সাথে যোগাযোগ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য অনুরোধ করতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here