বিদায়ের হাতছানি দিয়ে ২০১৯ পেরিয়েছে সবেমাত্র পাঁচ দিন। এক পা-দু পা করে সামনে এগোচ্ছে ২০২০। নতুন বছরে এরই মধ্যে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ঝরে গেছে ২৭টি তাজা প্রাণ।

দেশের ১৪টি জেলার পৃথক এই সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৮৫ জন।

এ দিকে, নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) এর এক পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, সদ্য বিদায় নেওয়া ২০১৯ সালে ৪৭০২টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৫২২৭ জন। এছাড়া আহত হয়েছেন ৬৯৫৩ জন।

সব মিলিয়ে বলা যায়, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, অদক্ষ চালক, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, সড়ক আইন ভঙ্গ, অনিয়ন্ত্রিত গতিসহ জনগণের অসচেতনতাই এসব দুর্ঘটনার মূল কারণ। ফিরে দেখি গত পাঁচ দিনের সড়ক দুর্ঘটনা-

১ জানুয়ারি : বছরের প্রথম দিনেই কক্সবাজারে ঝরল ৩ প্রাণ

বছরের প্রথম দিনেই কক্সবাজারে যাত্রীবাহী বাস ও প্রাইভেট কারের সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। একই দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও একজন।

বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের রামুর জোয়ারিয়ানালা গ্রামীণ ব্যাংকের পাশে (মোরাপাড়া) এ দুর্ঘটনা ঘটে।

এই দুর্ঘটনায় নিহতরা সকলেই ছিলেন প্রাইভেট কারের যাত্রী। ওই সময় দুর্ঘটনাকবলিত প্রাইভেট কারটি চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারের দিকে যাচ্ছিল। পরবর্তীকালে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা বাসের নিচে চাপা পড়া প্রাইভেট কারটি থেকে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করেন এবং আহত অপর একজনকে মুমূর্ষু অবস্থায় স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করেন।

একই দিনে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায় পিকআপ ভ্যানের সঙ্গে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে অটোচালক (৪৫) নিহত হন। এ দিন রাত ১১টার দিকে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ উপজেলার মুসল্লি বাজার এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। পরে হাইওয়ে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে।

অপরদিকে একই দিনে কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার সুজাতপুর এলাকায় একটি প্রাইভেট কার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে স্বামী-স্ত্রী নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় আহত হন আরও দুইজন।

ওই দিন সকাল পৌনে ১০টার দিকে প্রাইভেট কারটি নিয়ন্ত্রণ হারালে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

এ দিকে, বছরের প্রথম দিনে নাটোরে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত হন। একই দুর্ঘটনায় আহত হন আরও অন্তত ৩০ জন যাত্রী।

এ দিন সকাল ১০টার দিকে নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের সদর উপজেলাধীন দিঘাপতিয়া ইউনিয়নের কাশিয়াবাড়ি এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে নাটোর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মীরা ঘটনাস্থল থেকে হতাহতদের উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।

একইভাবে বছরের প্রথম দিনে নতুন বই নিয়ে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে চট্টগ্রামে ট্রাকের ধাক্কায় রেশমী আক্তার (১০) নামে এক শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। এ দিন সকাল ১১টার দিকে দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর বেলা পৌনে ১২টায় চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় না ফেরার দেশে পাড়ি জমায় রেশমী আক্তার।

এছাড়া আট জনেরে একদল সাইক্লিস্ট চট্টগ্রাম থেকে রাঙ্গামাটিতে যাওয়ার সময় দ্রুতগামী বাসের ধাক্কায় বাসের ধাক্কায় সাহেব আলী (২৫) নামে একজন নিহত হয়।

একই দিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে পাবনার সদর উপজেলার টেবুনিয়া-চাটমোহর সড়কের রামচন্দ্রপুরের ঢাল নামক স্থানে প্রাইভেট কারের ধাক্কায় ফেরদৌস সেলিম বাবলু (৪৮) নামে এক কলেজ শিক্ষক নিহত হন। পাশাপাশি রাত ১টার দিকে বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় ট্রাকের সঙ্গে যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষে ট্রাকচালক ও তার সহকারী নিহত হন।

এ দুর্ঘটনায় আরও অন্তত ১৫ জন বাসযাত্রী আহত হয়। পরে খবর পেয়ে শেরপুর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থল থেকে হতাহতদের উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

২ জানুয়ারি : নতুন বছরের দ্বিতীয় দিনে লক্ষ্মীপুরে ৪ জনের প্রাণহানি

নতুন বছরের দ্বিতীয় দিনে লক্ষ্মীপুরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পিকআপ খাদে পড়ে চারজন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। একই দুর্ঘটনায় আরও অন্তত ১৫ জন আহত হয়।

বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) সকালে ঢাকা-রায়পুর আঞ্চলিক মহাসড়কের পার্শ্ববর্তী লক্ষ্মীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কার্যালয় সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে লক্ষ্মীপুর ফায়ার সার্ভিস ও ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে হতাহতদের উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে পাঠায়।

একই দিন সকাল ১০টার দিকে নড়াইলের ব্রাহ্মণডাঙ্গা এলাকায় ট্রাক ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে ইশা (৪১) নামে এক ব্যক্তি নিহত হন।

এছাড়া ওই দিন রাতে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ঘোনাপাড়া এলাকায় রাস্তা পার হতে গিয়ে মাইক্রোবাসের চাপায় লাবনী বেগম নামে এক (২৬) গৃহবধূর মৃত্যু হয়।

৩ জানুয়ারি : তিন জেলায় সড়কে ঝরল ৪ প্রাণ

ঘটনাবহুল ২০১৯ এর বিদায়ের পরপরই ২০২০ সালের তৃতীয় দিনে দেশের তিন জেলায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় চারজন নিহত হয়েছেন।

এর মধ্যে শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত গোপালগঞ্জে একজন, বগুড়ায় একজন ও নীলফামারীতে আরও দুইজন নিহত হন।

এ দিন সকাল ৯টার দিকে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা হয়ে ইঞ্জিনচালিত মাহেন্দ্র করে ঘোনাপাড়া যাওয়ার পথে সবজিবোঝাই ট্রাকের চাপায় বিশ্বজিৎ মণ্ডল (২৫) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। একই দুর্ঘটনায় আহত হয় আরও দুইজন।

এ দিকে, ওই দিন দুপুরে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার কাঁঠালতলা এলাকায় দ্রুতগামী ট্রাকের চাপায় ফারুক হোসেন (২৪) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু হয়।

অন্যদিকে, একই দিন ভোরে বগুড়া থেকে মৃত জামাতাকে দেখে ফেরার সময় যাত্রীবাহী বাস ও মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে জহুরুল ইসলাম (৭০) ও আনোয়ারা বেগম (৬৮) নামে দুইজন নিহত হন। তারা উভয়ে সম্পর্কে ভাই-বোন।

এই দুর্ঘটনায় আরও অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন।

৪ জানুয়ারি : বাসের ধাক্কায় প্রাণ হারাল ছেলে, হাসপাতালে বাবা-মা

নতুন বছরের চতুর্থ দিনে টাঙ্গাইলে বাসের ধাক্কায় ফাহিম (১২) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই দুর্ঘটনায় আহত হলে তার বাবা-মাকে প্রথমে টাঙ্গইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীকালে উন্নত চিকিৎসার জন্য উভয়কেই ঢাকায় পাঠানো হয়।

শনিবার (৪ জানুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বাসাইল সড়কের মোড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

৫ জানুয়ারি : দুই মোটরবাইকের সংঘর্ষে নড়াইলে একজনের প্রাণহানি

নতুন বছরের পঞ্চম দিনে দুই মোটরবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নড়াইলে রুমেন (২৯) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও তিনজন মোটরবাইক আরোহী। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের যশোর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

রবিবার (৫ জানুয়ারি) দুপুরে শহরের কালনা-নড়াইল আঞ্চলিক মহাসড়কের মধুমতি ইটভাটা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

এ দিকে, যাত্রীবাহী বাস ও সিএনজির সংঘর্ষে একই দিনে কিশোরগঞ্জে শাহারা খাতুন (৭) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই দুর্ঘটনায় শিশু শাহারার বাবা-মা গুরুতর আহত হয়। পরবর্তীকালে স্থানীয়রা হতাহতদের উদ্ধার করে ভাগলপুর জহিরুল ইসলাম হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

এছাড়া একই দিন বেলা ১২টার দিকে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার ফুকরা এলাকায় বাসচাপায় ঠান্ডা বেগম (৬০) নামে এক বৃদ্ধা নিহত হন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here