পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে নারকীয় তান্ডবের ঘটনার দুইদিন পর বাংলাদেশি শ্রমিক ও তাদের সহায়তাকারীদের বিরূদ্ধে ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ জুন) চায়না কর্তৃপক্ষের বিগ বস “ওয়াং লিং পিও” কলাপাড়া থানায় মামলাটি দায়েরের পর ১৬ জন বাংলাদেশি শ্রমিককে আটক করেছে পুলিশ।

এর মধ্যে চারজন সুজন তালুকদার (৩৫), জলিল ফকির (৪২), সজিব শরীফ (২০) ও মামুন তালুকদার (২০)।

জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে ধানখালী পাওয়ার প্লান্ট এলাকা চায়নাদের খোয়া যাওয়া ল্যাপটপ, সিপিও ও মনিটরসহ আটক করে কলাপাড়া থানা পুলিশ। শুক্রবার সকালে তাদের সবাইকে কলাপাড়া সিনিয়র জুডিসিয়াল মেজিষ্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়।

বিজ্ঞ আদালত তাদের সবাইকে পটুয়াখালী জেলা কারাগারে প্রেরন করেছে। ধৃত সবার বাড়ি উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে।

এদিকে ঢাকা জেলার দক্ষিন কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ ১২ জন বাংলাদেশি শ্রমিককে এ মামলায় গ্রেফতার করে কলাপাড়া থানার এসআই মোজাম্মেলের কাছে হস্তান্তর করেছে।

এরা হলো নাসির, সুজন, আবদুল লতিফ, আতিকুর রহমান, ইমাম হাসান, মেহেদী হাসান, রাসেল আলী, শামিম মিয়া, মামুন, আইয়ুব, ফারুক ও বেল্লাল। এদের সবার বাড়ী বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় বলে জানা গেছে।

এই বিষয়ে কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম জানান, নিহত বাংলাদেশী শ্রমিক সাবিন্দ্র দাসের মৃহ দেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এবং পরিবারের পক্ষ থেকে এবটি ইউইউডি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

অপরদিকে চিনা শ্রমিকের নিহতের ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাওয়ার প্লান্টে আটশতাধিক পুলিশসহ বিজিবি, র‌্যাব ও আর্ম পুলিশ নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার দুপুরে কলাপাড়ার নির্মানাধীন পায়রা ১৩২০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুত কেন্দ্রের অভ্যন্তরে বয়লার থেকে পড়ে সাবিন্দ্র দাস নামের এক বাঙালী শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় বাঙালী শ্রমিক ও চায়নিজ শ্রমিকদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

নিহত বাঙালী শ্রমিকের লাশ গুমের চেষ্টার গুজবের খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা হামলার ঘটনা ঘটায়। বিকেল তিনটা থেকে অন্তত ছয় হাজার বাঙালী শ্রমিক ও তিন শতাধিক চায়নিজ শ্রমিকরা দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পরে। এঘটনায় বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জাং ইয়াং ফাং(২৬) নামের এক চাইনিজ শ্রমিক নিহত হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here