বরগুনার অন্যতম নদী খাকদোন ও ভাড়ানি খালসহ ৬ উপজেলার মধ্যদিয়ে প্রবহমান খালসমূহে চলছে অবৈধ দখলের মহোৎসব। ভূমি অফিসের এক শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারী আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে এই অবৈধ দখলদারদের সহযোগিতা করছে। বরগুনা জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রের খাকদোন নদীতে অবস্থিত জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের নৌঘাট দুটি দখল করে গড়ে উঠেছে আবাসন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। খাকদোন নদী দিয়ে এক সময় বুড়িরশ্বর নদী হয়ে নৌপথে পটুয়াখালীর সঙ্গে লঞ্চ চলাচল করত। খাকদোন নদীর পূর্ব মাথা সম্পূর্ণভাবে অবৈধ দখলে চলে যাওয়ায় নৌ যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে কয়েক বছর যাবত।

স্থানীয় নাগরিকদের পক্ষ থেকে একাধিক বার অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে এই নদীটির প্রবাহ অব্যাহত রাখার দাবি জানানো সত্ত্বেও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। খাকদোন নদীতে অবস্থিত নদী বন্দর ঝুঁকির মধ্যে। বরগুনা-ঢাকাগামী যাত্রীবাহী লঞ্চ জোয়ার ভাটার উপর নির্ভর করে চলাচল করতে হচ্ছে। ২০১৫ সালে খাকদোন নদীটির ১ কিলোমিটার এলাকা খনন করা হলেও কয়েক মাস যেতে না যেতেই তা আবার ভরটা হয়ে যায়। নদীটির দুপাড় দখলের কারণে সঙ্কুুচিত হয়ে আসায় দোতলা লঞ্চ জোয়ার ছাড়া ঘুরতে পারে না। বড় ও বিলাসবহুল লঞ্চ আসতে পারছে না। নদীটির মোহনা থেকে শুরু করে দুই পাশে প্রতিযোগিতা করে দখলে নেওয়া হয়েছে।

বরগুনা শহরের পূর্ব পাড়ে মাদ্রাসা সড়ক দিয়ে দক্ষিণে গোলবুনিয়া হয়ে বিশখালী নদীর সঙ্গে মিশে যাওয়া ভাড়ানি খাল দিয়ে এক সময় তালতলী উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে পণ্যবাহী নৌযান চলাচল করতো। এই ভাড়ানি খালের দুপাড় এখন অবৈধ দখলদারদের দখলে। এই ভাড়ানি খালটির উত্তর মাথায় খাকদোন নদীর মোহনায় এক সময় মুচিদের বসার স্থান ছিল। এখন সেই জায়গা অবৈধভাবে দখল করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে ‘আদালতের চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা’ সাইনবোর্ড। জানুয়ারি মাসে ভাড়ানি খাল রক্ষায় দুপাড় থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতির (বেলা) পক্ষে হাই কোর্টে রিট পিটিশন করা হয়। এর আলোকে বিচারপতি শেখ হাসান আলী ও বিচারপতি রাজিক আল জালিল সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ সচিব ভূমি মন্ত্রণালয়, সচিব বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়, চেয়ারম্যান জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরগুনা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরগুনাসহ ১০ জনকে ৬০ দিনের মধ্যে জবাব দানের আদেশ দেন।

২৫ দিন অতিক্রান্ত হলেও দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই। বরগুনা সদর উপজেলা ছাড়াও তালতলী, বামনা, পাথরঘাটা, বেতাগী ও আমতলী উপজেলার মধ্যে দিয়ে প্রবাহমান খালগুলোও অবৈধ দখলদারদের দখলে। বামনা উপজেলার প্রবাহমান বামনা সদরের খাল, হলতা খাল, রামনার খোল পটুয়াখাল দুপাশ দিয়ে অবৈধ দখলদারীরা দখল করে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করেছে। সরকারি খাস জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার সময় কখনই সহকারী কমিশনার (ভূমি) সরেজমিনে পরিদর্শন করেন না। সার্ভেয়ার, কানুনগো ও তহসিলদারদের প্রতিবেদনের উপরেই তারা সম্মতি স্বাক্ষর দেন।

বরগুনা পরিবেশ আন্দোলনের সদস্য সচিব মুশফিক আরিফ বলেন, ভাড়ানি খাল ও খাকদোন নদীর প্রবাহ বজায় রাখতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা জরুরি। হাই কোর্টের নির্দেশনা অজ্ঞাত কারণে প্রশাসন কার্যকর না করায় আমরা হতাশ। বরগুনার জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ বলেন, হাই কোর্টের নির্দেশনা হাতে পেলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here