শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) চিকিৎসাধীন রোগীকে লোহার রড দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে পিটিয়ে পা ভেঙ্গে দিয়েছে সন্ত্রাসীরা। শনিবার সকাল সাড়ে ১১টায় শেবাচিম হাসপাতালের অর্থোপেডিক্স ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।

এনিয়ে পুরো হাসপাতালের তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। আহতের নাম আলিম হাওলাদার। সে নলছিটি দপদপিয়া এলাকার আনছার আলীর ছেলে। ঘটনা শুনে তাৎক্ষনিক হাসপাতালের পরিচালক ডা. বাকির হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন। একই সাথে কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশের এসআই রফিকুল ইসলাম মামলা দায়ের করতে আহতের স্ত্রীকে থানায় মামলা দায়ের করার জন্য বলেন।

আহতের স্ত্রী লিজা বেগম জানান, দীর্ঘদিন ধরে নলছিটি দপদপিয়া এলাকায় তোজম্বর আলীর ছেলে সেলিম সিকদার, আইয়ুব আলীর ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ তাদের সহযোগী সন্ত্রাসীরা আলিমের মামা সুমনের কাছে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে আসছে। তাদের দাবিকৃত চাঁদা না দিলে সেলিমসহ অন্যান্যরা প্রতিনিয়ত সুমনকে ও তার স্বজনদের হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেয়।

এর প্রতিবাদ করায় গত বছর ৭ ডিসেম্বর সুমনের ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে সেলিমসহ তার সন্ত্রাসীরা মারধর ঘরে এবং দোকান থেকে নগদ অর্থ ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ নিয়ে সেলিমসহ তার সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করে সুমন। এতেও ক্ষান্ত হয়নি সেলিম ও তার সহযোগীরা। তারা তাদের দাবিকৃত চাঁদা না দিলে সেলিম, আল মামুনসহ ১০/১২ জন সন্ত্রাসী অতর্কিতভাবে সুমনের উপর গত শুক্রবার দপদপিয়ার জিরো পয়েন্ট এলাকায় হামলা চালায়।

সুমনের ডাকচিৎকারে ভাগ্নে আলিম, সোহেল সিকদার, ইমরান ও গোপাল দাস এগিয়ে আসলে তাদেরকে কুপিয়ে জখম করা হয়। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে তাৎক্ষনিক বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করেন। তবে ঘটনা ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করতে আহত দেখিয়ে সেলিম ও আল মামুনও হাসপাতালে ভর্তি হয়। স্থানীয়রা জানান, হামলাকারী সন্ত্রাসীদের শক্তির মূল উৎস নূরে আলম। নূরে আলম তাদের দিয়ে বিভিন্ন মাদক ব্যবসা করায়

ইতিপূর্বে বিপুল পরিমান ফেন্সিডিলসহ র‌্যাবের হাতে আটক হয়েছিল। কিন্তু জামিনে বের হয়ে পুনরায় নূরে আলম তার মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজি শুরু করে। গতকাল শনিবার সেলিম ও আল মামুন তাদের সহযোগী সন্ত্রাসীদের ফোন করে এনে পুনরায় অর্থোপেডিক্স ওয়ার্ডে প্রবেশ করে বেডের লোহার পায়া খুলে আলিমকে মারধর করে। তারা হত্যার উদ্দেশ্যে তার মাথায় আঘাত করে ও পিটিয়ে তার পা ভেঙ্গে দেয়।

এ সময় সন্ত্রাসীরা ওয়ার্ডে ত্রাসের সৃষ্টি করে। রোগী ও তাদের স্বজনরা এদিকে-ওদিক ছুটোছুটি করতে থাকে। প্রান ভয়ে তারা ওয়ার্ড থেকে বেরিয়ে বাইরে আশ্রয় নেয়। অপর একটি সূত্রে জানা গেছে, সেলিমসহ তাদের সাথে রাজিব নামের একজন হাসপাতালে ভর্তি হয়।

মূলত ওই রাজিবের নেতৃত্বেই এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে স্বজনরা জানান। এ ব্যাপারে কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি নুরুল ইসলাম জানান, হামলার বিষয়ে শুনেছি।

কেউ অভিযোগ করলে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here