অনলাইন ডেস্কঃ তৃতীয় ধাপে বরিশাল জেলার ১০টি উপজেলা পরিষদের মধ্যে ৯টি উপজেলায় আগামী ২৪ মার্চ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। গত ১৯ জানুয়ারী ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল আজ মঙ্গলবার। শেষ দিনে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং তাদের মিত্র দল মনোনীত চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান এবং ভাইস চেয়ারম্যান (মহিলা) প্রার্থীরা।

কোন কোন উপজেলায় আওয়ামী লীগের একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থীও মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তবে উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী নেই বিএনপিসহ ঐক্যফ্রন্ট কিংবা বাম দলগুলোর।

তৃতীয় ধাপে উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়ন জমা দেয়ার শেষ দিন দলীয় নেতাকর্মী-সমর্থকদের নিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে ভিড় করেন প্রার্থীরা।

দুপুর ১টার পর বরিশাল সিটি মেয়র সাদিক আবদুল্লাহকে সাথে নিয়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়ন জমা দেন সদর উপজেলা পরিষদে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী ও বিদায়ী চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান রিন্টু, ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী মাহবুবুর রহমান মধু এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী রেহানা বেগম।

এর আগে ঘনিষ্ট স্বজনদের সাথে নিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়ন জমা দেন সদর উপজেলায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. আনোয়ার হোসাইন। এ সময় নিজেকে বিদ্রোহী নয়, আওয়ামী লীগ এবং জনগণ মনোনীত স্বতন্ত্র প্রার্থী উল্লেখ করে আনোয়ার হোসেন বলেন, সারা দেশে উন্নয়নের জোয়ার বইলেও গত ৫ বছরে বরিশাল সদরে উন্নয়নের ছোয়া লাগেনি। নির্বাচিতরা ব্যবসা সহ হালুয়া রুটি নিয়ে ব্যস্ত থাকায় সদর উন্নয়ন বঞ্চিত হয়েছে। তাই সদর উপজেলায় পরিকল্পিত উন্নয়নের জন্য প্রার্থী হয়েছেন এবং শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকার কথা বলেন তিনি।

এদিকে সদর উপজেলায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী সাইদুর রহমান রিন্টু বলেন, আনেয়ার হোসেন আওয়ামী লীগের নয়, বিদ্রোহী প্রার্থী। তিনি হয়তো কোন ক্ষোভ থেকে এসব বলেছেন। নির্বাচিত হলে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত গ্রামকে শহরে পরিণত করার জন্য কাজ করবেন বলে তিনি জানান।

এছাড়া গৌরনদীতে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত সৈয়দা মনিরুন্নাহার মেরী, আগৈলঝাড়ায় আওয়ামী লীগের রইস সেরনিয়াবাত, মুলাদীতে আওয়ামী লীগের তরিকুল হাসান মিঠু খান ও আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী ইউসুফ আলী, বানারীপাড়ায় আওয়ামী লীগের গোলাম ফারুক ও জাতীয় পার্টির মিজানুর রহমান চোকদার, উজিরপুরে আওয়ামী লীগের আব্দুল মজিদ সিকদার বাচ্চু, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী হাফিজুর রহমান ইকবাল (তার অজ্ঞাতে তার নামে মনোনয়ন জমা দেন ঘনিস্ট সমর্থক মো. আকবর ও মো. নান্না), বাংলাদেশ জাসদের আবুল কালাম আজাদ বাদল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ফিরোজ হোসেন, বাকেরগঞ্জে আওয়ামী লীগের শামচুল আলম চুন্নু ও শ্রমিক লীগ কেন্দ্রিয় কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক সাবেক এমএলএ মরহুম আব্দুল মান্নান হাওলাদারের ছেলে একেএম তিতুমীর হাওলাদার, হিজলায় আওয়ামী লীগের সুলতান মাহমুদ টিপু সিকদার, আওয়ামী লীগের ৩ বিদ্রোহী যথাক্রমে আওয়ামী লীগ নেতা বেলায়েত হোসেন ঢালী, আমিনুল ইসলাম চৌধুরী স্বপন ও অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন এবং বাবুগঞ্জে আওয়ামী লীগের কাজী এমদাদুল হক দুলাল, আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী উপজেলা যুবলীগ সদস্য মোস্তাক আহমেদ রিপন ও বিকল্পধারা বাংলাদেশের এনামুল হক রাজু মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

এদিকে শেষ দিন বাবুগঞ্জে ওয়ার্কার্স পার্টির চেয়ারম্যান প্রার্থী ফিরোজ আলমকে মনোনয়ন জমা দিতে বাঁধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে দীর্ঘক্ষণ সেখানে হট্টগোল হয়। ওয়ার্কার্স পার্টির স্থানীয় নেতাদের অভিযোগ, শেষ দিনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর কমী-সমর্থকরা উপজেলা পরিষদের প্রধান ফটকে অবস্থান নিয়ে ভিন্ন মতের প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা দিতে বাঁধার সৃষ্টি করে। ক্ষমতাসীনরা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ইউএনও’র কার্যালয়েও তালা ঝুলিয়ে দেয়। এর প্রতিবাদে দফায় দফায় বিক্ষোভ করে ওয়ার্কার্স পার্টির নেতাকর্মীরা। বিক্ষোভের মুখে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা ক্ষমতাসীনদের সরিয়ে ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থীর মনোনয়ন জমা দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের এক সদস্যকে লাঞ্চিত করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। যদিও স্থানীয় আওয়ামী লীগ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

হট্টগোলের খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুজিত হাওলাদার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে তার কার্যালয়ে গিয়ে ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী ফিরোজ আলমের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেন। এ সময় জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সম্পাদক সাবেক এমপি টিপু সুলতানসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বরিশাল জেলার ৫টি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ইকবাল আখতার জানান, ছিলো মনোনয়ন জমা নেওয়ার শেষ দিন। এরপর ২৮ ফেব্রুয়ারী মনোনয়ন বাছাই করা হবে। আগামী ৭ মার্চ পর্যন্ত প্রার্থীরা তাদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে পারবেন। আগামী ২৪ মার্চ তৃতীয় ধাপে বরিশালের ৯ উপজেলায় অনুষ্ঠিত হবে ভোটগ্রহণ। ৯ উপজেলার ৭০৬ কেন্দ্রে মোট ভোটার ২১ লাখ ৮৮ হাজার ৮৬জন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here