দেশে করোনা সংক্রমণের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে এতে করে বরিশাল জেলায় করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আজ ৪ আগস্ট বুধবার সকাল ১১ টায় সার্কিট হাউজ সম্মেলন কক্ষ জেলা প্রশাসন বরিশালের আয়োজনে করোনা মহামারী সংকট উত্তরণ ও সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের সাংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক বরিশাল জসীম উদ্দীন হায়দার এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন, শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচাল ডাঃ সাইফুল ইসলাম, জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ মনোয়ার হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বরিশাল প্রশান্ত কুমার দাস, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বরিশাল রবিউল ইসলাম খান প্রমূখ সহ প্রিন্ট ও ইলেক্টট্রনিক্স মিডয়ার সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

শুরুতে শেবাচিম পরিচাল ডাঃ সাইফুল ইসলাম বলেন শেবাচিমে ১০৭ টি সেন্টাল অক্সিজেন এর ব্যবস্থা রয়েছে। ৪২ টি আইসিইউ বেড রয়েছে এর মধ্যে ৩০ টি সচল রয়েছে। করোনা ওয়ার্ডে ৬১৬ টি অক্সিজেন সিলিন্ডার রয়েছে এর মধ্যে ছোট ৫৯৩ এবং বড় ৫০টি। ইতিমধ্যে অক্সিজেন সঠিকভাবে বন্টনের জন্য ৫ সদস্যের কমিটি করে দেয়া হয়েছে। বর্তমানে করোনা ওয়ার্ডে ৩৫০ জন রোগী রয়েছে। হাসপাতালে অক্সিজেন সিলিন্ডারের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রয়েছে। আমরা রুগীদের আন্তরিকতার সাথে চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু মাঝেমধ্যে কিছু রুগী এবং রুগীর স্বজনরা প্রভাব খাটিয়ে প্রয়োজন না থাকলেও আইসিইউ দখল করে রাখে। এতে করে জরুরী আইসিইউ প্রয়োজন এমন রুগী সেভা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এক্ষেত্রে আমরা মিডিয়ার সহযোগিতা চাই।

সিভিল সার্জন বরিশাল ডাঃ মনোয়ার হোসেন বলেন, বরিশাল জেলায় এপর্যন্ত আমরা ৪ টি কোম্পানির ভ্যাকসিন পেয়েছে। প্রথম দফায় তিনি ধাপে কোভিশিল্ড ভ্যাকসিনের ২ লক্ষ ৪০ হাজার ৯০০ ডোজ পেয়েছি এর মধ্যে আমরা প্রথম এবং কিছু দ্বিতীয় ডোজ মিলিয়ে ১ লক্ষ ৫০ হাজার ৩৯০ ডোজ টিকা দিয়েছি। আমরা ৯০ হাজার ৫১০ টি ডোজ ফেরত দিয়েছি। দ্বিতীয় দফায় সিনোফার্মের ভ্যাকসিন তিন দফায় ১ লক্ষ ২ হাজার ডোজ পেয়েছি। পাশাপাশি মর্ডানা ভ্যাকসিনের টিকা দুই দফায় ২৬ হাজার ৪০০ ডোজ পেয়েছি। বরিশাল জেলা ও মহানগরীর টিকাদান কেন্দ্রে টিকা দেওয়া হচ্ছে। আগামী কিছু দিনের মধ্যে আমরা সবাইকে ভ্যাকসিনের আওতায় আনা হবে। জেলা প্রশাসক বরিশাল জসীম উদ্দীন হায়দার বলেন, দক্ষিণ অঞ্চলের একমাত্র চিকিৎসা কেন্দ্র শেবাচিমে করোনা রুগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে ফলে হিমশিম খাচ্ছে শেবাচিমের চিকিৎসা সেবা এর ফলে সৃষ্টি হয়েছে জন দুর্ভোগ। শের-ই-বাংলা মেডিকেল কে করোনার জন্য ৩০০ বেডে উন্নীত করা হয়েছে। এছাড়া বরিশাল সদর হাসপাতালকে ১০০ বেডে উন্নীত করা হয়েছে।

এতে করের দক্ষিণ অঞ্চলের করোনা আক্রান্ত রুগী সামাল দেওয়া সম্ভব হচ্ছেনা। গতকাল মতবিনিময় সভার মধ্যমে নতুন ভাবে নগরীর মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র কালিবাড়ী রোড কে ২০ সয্যা বিশিষ্ট নারী করোনা রুগীদের জন্য ইউনিট খোলা হয়েছে। এছাড়া বরিশাল জেলার ৯ টি উপজেলার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ২০ টি করে ১৮০ টি বেট করোনা রুগীর জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে করোনা রুগীর সেবা দেওয়ার জন্য। পাশাপাশি বেসরকারি ভাবে কয়েকটি হাসপাতালকে করোনা ইউনিটে রুপান্তর করার জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে আমরা একটি টিম বরিশাল নগরীর আম্বিয়া হাসপাতাল এবং সাউথ এ্যাপোলো মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন করা হবে। পর্যায় ক্রমে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে প্রয়োজন অনুযায়ী কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এদিকে দুপুর দেড়টার দিকে জেলা প্রশাসক বরিশাল জসীম উদ্দীন হায়দার এর নেতৃত্বে একটি টিম নগরীর আম্বিয়া হাসপাতাল এবং সাউথ এ্যাপোলো মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন সিভিল সার্জন বরিশাল ডাঃ মনোয়ার হোসেন, অধ্যক্ষ শের-ই-বাংলা মেডিকেলে কলেজ বরিশাল অধ্যাপক ডাঃ মোঃ মনিরুজ্জামান, পরিচালক শের-ই-বাংলা মেডিকেলে কলেজ হাসপাতাল ডাঃ এইচ এম সাইফুল ইসলাম, চেয়ারম্যান সাউথ এপোলো মেডিকেল কলেজ বরিশাল অধ্যাপক ডাঃ মোঃ জহিরুল হক, পরিচালক আরিফ মেমরিয়াল হাসপাতাল বরিশাল ডাঃ মোঃ নজরুল ইসলাম প্রমূখ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here