অনলাইন ডেস্ক: বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাই ইউনিয়নে নিজ বাড়ি থেকে রেজাউল করিম রিয়াজ (৪৫) নামের এক ব্যক্তির গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। খবর পেয়ে শুক্রবার সকালে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী লিজা বেগম ও শ্যালক রুবেলকে আটক করা হয়েছে।

চরমোনাই ইউনিয়নের বুখাইনগর রাজধর গ্রামের মৃত সাত্তার হাওলাদারের ছেলে রিয়াজ । তিনি বরিশাল নগরীতে দলিল লেখকের কাজ করতেন। তার মরদেহ উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার রাতে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হতে পারে বলে পুলিশের ধারণা। ঘটনাস্থল থেকে দুটি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

নিহতের স্বজনরা জানায়, ৪ বছর আগে প্রথম স্ত্রীকে তালাক দিয়ে লিজাকে বিয়ে করেন রিয়াজ। বছর দুয়েক আগে স্ত্রীকে নিয়ে তিনি নিজের গ্রামের বাড়িতে বসবাস শুরু করেন। সম্প্রতি লিজা ওই বাড়ি তার নামে লিখে দেয়ার জন্য রিয়াজের ওপর চাপ দিতে থাকেন। কিন্তু রিয়াজ তাতে রাজি না হওয়ায় দুজনের মধ্যে ঝগড়া লেগেই থাকতো। ধারণা করা হচ্ছে, এ ঘটনার জেরেই বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে রিয়াজকে খুন করেন লিজা।

আটক লিজা পুলিশকে জানান, বৃহস্পতিবার রাতে স্বামী-স্ত্রী মিলে রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন তারা। রিয়াজ ঘরের সামনের কক্ষে এবং লিজা ভিতরের কক্ষে ঘুমান। ভোর রাতে সামনের কক্ষে এসে তার স্বামীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার করেন লিজা। প্রতিবেশিরা এসে রিয়াজের গলাকাটা মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়।

লিজা পুলিশকে আরও জানান, ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। ঘরের এক পাশে সিঁধ কেটে ভেতরে ঢুকে ডাকাতরা রিয়াজকে হত্যা করেছে। সেই সঙ্গে দলিলপত্র ও নগদ অর্থ নিয়ে গেছে।

কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থল ও আশপাশের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে মনে হচ্ছে, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। ঘরের এক পাশে সিঁধ কাটা হলেও সেখান থেকে কোনো মানুষ বের হওয়ার সুযোগ নেই। এছাড়া রিয়াজের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ৭টি কোপের চিহ্ন রয়েছে।

ওসি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে নিহতের স্ত্রী জড়িত রয়েছে বলে পুলিশের ধারণা। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য লিজা বেগম ও তার ভাই রুবেলকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধারকৃত বিভিন্ন আলামত যাচাই বাছাই চলছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here