‘মাথাকাটা’ আর ‘ছেলেধরা’ গুজবে সারাদেশে আতংক বিরাজ করছে। একের পর এক ঘটছে গণপিটুনির ঘটনা। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন জেলায় গণপিটুনির স্বীকার হয়ে নিহত হয়েছে কয়েকজন নিরীহ ব্যক্তি।

এতে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এছাড়াও ছেলেধরার গুজব বন্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউব এবং ব্লগগুলো রাখা হয়েছে কঠোর নজরদারিতে। এসবে ছেলেধরা-সংক্রান্ত বিভ্রান্তিকর পোস্ট দিলে বা শেয়ার করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থাও গ্রহন করা হবে।

বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার মোঃ সাইফুল ইসলাম জানান, পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি-অপারেশন্স) সাঈদ তারিকুল হাসান স্যার সারাদেশের ন্যায় বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার বরাবরও একটি সর্তক বার্তা পাঠিয়েছেন। বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে, ফেইসবুক, টুইটার, ইউটিউব, ব্লগ এবং মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ছেলেধরা-সংক্রান্ত বিভ্রান্তিমূলক পোস্টে মন্তব্য বা গুজব ছড়ানোর পোস্টে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে হবে। বার্তাটি পাওয়ার পর থেকেই বরিশাল জেলাজুড়ে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে। একই সাথে জেলার প্রত্যেক থানায় আলাদা আলাদা করে মাইকিং করছে পুলিশ সদস্যরা।

এছাড়াও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি, স্কুলে অভিভাবক ও গভর্নিং বডির সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়, ছুটির পর অভিভাবকরা যাতে শিক্ষার্থীকে নিয়ে যায় সে বিষয় নিশ্চিত করার জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা সভা করছি। বার্তায় প্রতিটি স্কুলের ক্যাম্পাসের সামনে ও বাইরে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন,মেট্রোপলিটন ও জেলা শহরের বস্তিতে নজরদারি বৃদ্ধির নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বার্তায় আরো বলা হয়েছে, মোট চারটি উপায়ে ছেলেধরার গুজব ও গণপিটুনি প্রতিরোধে পুলিশের ইউনিটগুলোকে কাজ করার নির্দেশনা ও গুজব বন্ধে জনসম্পৃক্ততামূলক উঠান বৈঠকের মাধ্যমে গুজববিরোধী সচেতনতা সৃষ্টি এলাকায় মাইকিং- লিফলেট বিতরণ, মসজিদের ইমামদের ছেলেধরা গুজববিরোধী আলোচনার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

এদিকে গুজব ছড়িয়ে গনপিটুনি দিয়ে হত্যা বন্ধ ও জনসচেতনতা সৃস্টির লক্ষে বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ করেছেন বরিশালের আগৈলঝাড়া থানা পুলিশ । আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সোপর্দ করার বিষয় জনসাধারনকে উদ্বুদ্ধ করে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে সকলের মাঝে লিফলেট বিতরণ করা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here