কেন্দ্রীয় লঞ্চ মালিক সমিতির বৈঠকে যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বরিশালসহ সব রুটে নৌ-যান চলাচল শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর পল্টনে মালিকদের বৈঠক শেষে লঞ্চ চালনার এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

ঘোষণার পরপরই অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার রুটে লঞ্চ চালনার প্রস্তুতি নেয় শ্রমিকরা। বিকেল ৪টায় বরিশাল নদীবন্দর থেকে প্রথম একটি লঞ্চ মেঘদূত-১ ভোলার উদ্দেশে যাত্রী নিয়ে রওয়ানা দেয়।

কেন্দ্রীয় লঞ্চ মালিক সমিতির সহ-সভাপতি সাইদুর রহমান রিন্টু সাংবাদিকদের বলেন, চুক্তি ভঙ্গ করে যেসব শ্রমিক যাত্রী ও মালিকদের জিম্মি করে আন্দোলন করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কথায় কথায় শ্রমিকদের ধর্মঘটের কারণে নৌযান চলাচল ব্যাহত হয়। পাশাপাশি যাত্রী ও মালিকরা তাদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়ে।

‘ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হতে হয় নৌযান মালিকদের। সবশেষ তারা ওয়াদা ভঙ্গ করে গত ২৩ জুলাই রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে কর্মবিরতি পালন করে। এজন্য যাত্রী ও পণ্যবাহী পরিবহন মালিকরা নৌযান চলাচল বন্ধের ঘোষণা দেন। সে কারণে শ্রমিকরা তাদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার করলেও বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনের মতো বন্ধ ছিল সব ধরনের নৌযান চলাচল।’

তিনি আরও বলেন, হজযাত্রীসহ সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখে লঞ্চ চলাচলের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কোনো শ্রমিক না এলেও আমরা আমাদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় দুপুর ২টা থেকে যাত্রী ও মালবাহী নৌযান চলাচলের ঘোষণা দিয়েছি।

সরেজমিনে বরিশাল নদীবন্দরে গিয়ে দেখা যায়, মালিক সমিতির ঘোষণার ৩০ মিনিটের মাথায় যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী নৌযান চলাচলের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। ঢাকার উদ্দেশে যাত্রার অপেক্ষায় নদীবন্দরে বার্দিং করা চারটি লঞ্চে যাত্রী উঠতে শুরু করেছে। তবে যাত্রীদের চাপ কম।

বিআইডব্লিউটিএ’র বরিশাল নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিদর্শক মো. কবির হোসেন জানান, মালিকদের ঘোষণার কারণে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কোনো লঞ্চ ছেড়ে যায়নি। ফলে ভোলা, মেহেন্দিগঞ্জ রুটের যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here