বরিশাল নগরীর ২৯নং ওয়ার্ডে অবস্থিত আব্দুল্লাহ দারুস সালাম নুরানী, হাফেজি ও কওমী মাদরাসার সভাপতি জনাব ছাদুল্লাহ সিকদারের নাম ব্যাবহার করে তার দুই ছেলে আহসান উল্লাহ রিয়াজ ও আমান উল্লাহ রিয়াজ বিভিন্ন স্থানে ও ফেইসবুকে মাদরাসার পরিচালকের বিরুদ্বে মিথ্যা অসালিন কথাবার্তার মাধ্যমে কুৎসা রটানো এবং দুই ছেলের বিভিন্ন দূর্নীতি তুলে ধরে সাংবাদিক সম্মেলন করেন অসহায় পরিচালক মাওলানা ওমর ফারুক।

 

গতকাল বিকাল ৪টায় নগরীর একটি রেস্তরায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মাদরাসার পরিচালক মাওলানা ওমর ফারুক সাংবাদিকদের নিকট অভিযোগ করে বলেন- আমি মাদরাসার প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে তিল তিল করে আমার শরিলের রক্তের বিনিময়ে আজ এই মাদরাসাটি বরিশালের মধ্যে অন্যতম একটি দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে সকলের কাছে পরিচিতি পেয়েছে। মাওলানা ওমর ফারুক আরো বলেন- দারুসসালাম নুরানী ও হাফেজি মাদরাসাটি ২০১২ সালের জানুয়ারী মাসে ২০/২৫ জন ছাত্র/ছাত্রী নিয়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া আমেনা খাতুন হাফেজী মাদরাসার ঘরে মাসিক ৫ হাজার টাকায় ভাড়া নিয়ে যাত্রা শুরু করি। আমার দক্ষ পরিচালনায় মাদরাসাটির সুনাম চারদিকে ছড়িয়ে পড়ায় দিনদিন ছাত্র ছাত্রি বৃদ্বি পেতে থাকে। এভাবে আমার একক পরিচালনায় তিন বছর চলে। এতে সন্তুস্টি হয়ে সভাপতি ছাদুল্লাহ সিকদার মাদরাসা সংলগ্ন দান করার মতো কোন জমি না থাকায় তিন বৎসর পরে এলাকার লোক প্রবেশের রাস্তার নিচে খোলা রাখার শর্তে ২শতাংশ রাস্তার জমি ওয়াকফ লিল্লাহ হিসেবে মাদরাসার নামে দান করেন।

 

 

দান করার সাথে সাথেই মাদরাসার নামকরন তার বাবার নাম সংযুক্ত করে অথ্যাৎ আব্দুল্লাহ দারুসসালাম নূরানী ও হাফিজীয়া মাদরাসা করা হয়। উল্লেখ্য মাদরাসার জমি দলিল করার পূর্বে আমাকে আজীবন অত্র মাদরাসা পরিচালনার দায়িত্ব দিয়ে কোর্টের মাধ্যমে নোটারী পাবলিক করে দেওয়া হয়। এর পরে আমি কাজ শুরুকরি। বিগত ২০১২ সাল হতে ২০১৬ সার পর্যন্ত মাদরাসার শিক্ষার্থীদের বেতন হতে যে আয় হতো তাতে ঘড় ভাড়া, শিক্ষক বেতন ও রক্ষনাবেক্ষনের খরচ সংকুলান হতোনা বিদায় প্রতিমাসে ২০/৩০হাজার টাকা আমাকে বহন করতে হতো। ২০১৭সাল হতে মাদরাসা আয়ের মুখ দেখে আমাকে ছাদুল্লাহ সিকদার সাহেব সবসময়’ই বলতো হুজুর আপনি খরচ চালাইয়াযান। আমি আমার ঐ বাড়ির জমির মামলা সংক্রান্ত জমির মামলা মুক্ত হয়ে বিক্রি করে আপনার সমস্ত টাকা দিয়ে দিবো। বাড়িটি ইছাকাঠি গ্রামের হাতেম আলী দীঘির উত্তর পাশে অবস্থিত।

 

 

তার কথা মতো আমি মাদরাসার জন্য আমার প্রতিষ্ঠিত নথুল্লাবাদের দোকান হতে টাকা এনে মাদরাসার জন্য খরচ করতে থাকি। যার ফলে অর্থ সংকটে পরি এবং আমি আমার দোকানে অর্ধেকাংশ ভাড়া দিতে বাধ্য হই। এখানে আরো উল্লেখ্য মাদরাসার বাবুর্চি রাখার সংগতি না থাকায় আমার ক্যানসারে আক্রান্ত স্ত্রী ২৫/৩০ জন শিক্ষার্থীর রান্নাবান্নার কাজ নিজেই করতেন এবং আমার বাসা হতে খাবার পাঠানো হতো। সেহেতু মাদরাসার ২০১৭ সাল হতে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিনত হয়। এবং সিকদার সাহেব জমির মামলার কোন সুরাহা করতে পারেনাই। এখন আমি মাদরাসার সকল খরচ বাদে উদ্বৃত টাকা মাদরাসার উন্নয়ন মুলক কাজের জন্য এবং ছাদুল্লাহ সিকদার সাহেবের স্বিদ্বান্তে পরিচালক হিসেবে মাসিক ১২ হাজার টাকা ২০১৭ সাল হতে গ্রহন করি। মাদরাসাটি ৫তলা ফাউন্ডেশন নিয়ে ১তলার ছাদ এবং দুই তলার হিফজ বিভাগের ছাদ এবং দুই তলার সকল পিলার ছাদ লেভেল পর্যন্ত ওয়াল টিনসেট তৈরি করাতে প্রায় ৩৩লক্ষ টাকা খরচ হয়।

 

 

 

বিভিন্নজন থেকে প্রাপ্ত অনুধান ও সিটি কর্পোরেশন হতে প্রাপ্ত এবং নগদ রট, সিমেন্ট, ইট, বালু বালু বাবদ প্রায় তিন লক্ষ টাকা পাই। আমার গ্রহনকৃত দানের সকল টাকা আমি রিসিবের মাধ্যমে গ্রহন করি। রিসিব ছাড়া কোন টাকা গ্রহন করা হয়নাই। এখনে উল্লেখ্য ইতিমধ্যে ছাদুল্লাহ সিকদারের বেকার বড় ছেলেকেও আমি মাদরাসার হিসাব রক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেই। তার বড় ছেলে আহসানউল্লাহ নিয়াজ হিসাব রক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়ে মাদরাসার ছাত্র বেতনের টাকা হতে পায় ৮০ হাজার টাকা নিজের সংসারে খরচ করেন। এই টাকা মাদ্রাসার ফান্ডে জমা দিতে বললে সিকদার সাহেবের সাথে আমার বিরোধের সুুএপাত হয়। গত ২১/০৬/২০১৯ইং তারিখ সিকদার সাহেব জুমায় হঠাৎ করে আমাকে এবং আঃরাজ্জাক সাহেবকে স্কক্রটরী পদ থেকে মাদ্রাসা হতে অব্যাহতির ঘোষণা করেন।যাতে আমি সহ এলাকাবাসী হতবাক হয়ে যায়। এখানে পাঠক সহ এলাকাবাসীর কাছে পস্ন যেহেতু মাদ্রাসা পরিচালনা পরিষদ আছে। আমি ছাদুল্লাহ সিকদার সাহেবের তৈরি কৃত মাদ্রাসায় চাকরি নেই না,০৩(তিন) বৎসর আগ থেকেই আমি মাদ্রাসা সুচনা করেছি।ছাদুল্লাহ সিকদার সাহেব মাদ্রাসা পতিষ্ঠত হওয়ার ৩ বছর পরে জমিদান করিয়া যোগদান করেন।সেহেতু ছাদুল্লাহ সিকদার সাহেব কোন মিটিং বা কমিটির সদস্য মতামতছাড়া একা আমাকে ও সেক্রেটারি আঃরাজ্জাক সাহেবকে ছাদুল্লাহ সিকদার অব্যাহতির ঘমতা রাখেন কি না? আমি মাদরাসায় আয় ব্যায় ২০১২সাল হতে ২০১৮ সাল পর্যন্ত প্রতি জানুয়ারী মাসে হিসেব করে রেজুলেশন করা হয়েছে, কমিটির সদস্যদের সাক্ষর এবং সভাপতি হিসেবে ছাদুল্লাহ সিকদারের প্রতি স্বাক্ষর করানো আছে।

 

 

 

তাতে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত আমি মাদরাসার কাছে পাওনা আছি ২১ লক্ষ ৮০হাজার ৯৯১ টাকা। মাদরাসার ফান্ডে টাকা না থাকায় সল্প খরচের জন্য যে তিন শতাংশ জমি সরাসরি মাদরাসার নামে ওয়াকর্ফ লিল্লাহ দলিল করা হয়। প্রকৃতপক্ষে উক্ত জমি ছাদুল্লাহ সিকদার অন্য যায়গা থেকে ঐ তিন শতাংস জমি সামছু মিয়াকে দিয়ে দিয়েছেন। এটা একটা তার আমার উপর ক্ষোভ। উনি জমি দাতা হতে পারেনাই। কিন্তু উক্ত ওয়াকফ লিল্লাহ দলিলে সনাক্তকারী ওনার বড় ছেলে আহসান উল্লাহ নিয়াজ, আমি শুধু শাক্ষী মাত্র। উনি এখন বলছেন ৩টি দলিল হওয়ার কথা। যেদিন দলির হয় সেদিনেই দলিল দাতা – গ্রহিতা কতৃক স্বাক্ষর হওয়ার পর ঐ দলিল ফটোকপি করে ছাদুল্লাহ সিকদিরকে দেওয়া হয়েছে, এবং সামসু মিয়াকে এনে নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে লিখে নেওয়া হয় যে মাদরাসার যে তিন শতাংশ জমি ওয়াকফ হয়েছে ওই জমি সামছু মিয়া দান করেনাই।

 

 

প্রকৃত পক্ষে ঐ জমি দান করেন ছাদুল্লাহ সিকদার। তাতেও তিনি খুশি নন। এর পরেও বলা হয়েছে আইনি প্রক্রিয়ার যদি ঐ জমি ছাদুল্লাহ সিকদারের নামে আনাযায় তাতে যতো টাকা ব্যায় হবে, সম্পূর্ন টাকা মাদরাসার তহবিল থেকে ব্যায় হবে। সেক্ষেত্রে আমার পাওনা টাকা না দিয়ে সিকদার সাহেব ওনার ছেলেদেরকে পরিচালক হিসাবরক্ষক নিয়োগ করে মাদরাসার বর্তমান উদ্বিত্ব টাকা না দিয়ে ছাদুল্লাহ সিকদার ওনার দুই ছেলেকে পরিচালক হিসাবরক্ষক নিয়োগ করে মাদরাসার বর্তমান অবশিষ্ট টাকা নেয়ার পায়তারা ও আমার নামে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে মাদরাসা হতে অপসারন করতে উঠে পরে লেগেছে।

 

সেহেতে মাওলানা ওমরফারুক মিডয়ার মাধ্যমে উর্দ্বতন কতপক্ষের নিকট আবেদন জানান – এই প্রতিষ্ঠানটি দ্বীনি প্রতিষ্ঠান হিসেবে সুনামের সাথে চালাতে পারে এবং তাদের অসালীন আচরন হতে রক্ষা পেয়ে মাদরাসার সিকট আমার প্রাপ্য ২১ লক্ষ ৮০হাজার ৯শ ৯১টাকা পেতে পারি তার সু ব্যাবস্তা করে এবং আমার বিরুদ্বে এমন অপবাদ ছড়ানোর বিচার চেয়েছেন অসহায় ভুক্ত ভুগী মাওলানা ওমর ফারুক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here