বরিশাল জেলার মুলাদী উপজেলার প্যাদারহাট ওয়াহেদিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী তামান্না আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনার প্রায় ১১ মাস পেরিয়ে গেলেও বিচারের দেখা পায়নি ভু্ক্তভোগী পরিবার। ফলে বিচার নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পরেছেন ওই ছাত্রীর পরিবারের সদস্যরা। হতদরিদ্র পরিবার হওয়ায় আদৌ বিচার পাবে কিনা এ নিয়ে তাদের মধ্যে নানা শঙ্কা বিরাজ করছে।

নিহতের স্বজনরা বলেন, গত ৭ নভেম্বর বিকেলে স্কুলছাত্রী তামান্না আক্তারকে ঘরে একা পেয়ে দুর্বৃত্তরা ধর্ষণের পর হত্যা করে। এঘটনায় নিহতের মা তাছলিমা বেগম প্রতিবেশী মৃত কালু খানের বখাটে পুত্র সাইফুল ইসলাম ওরফে সাইদুল (৩২) , অলিখা (৩৭) , মোখলেছ (৪০), মাহাবুব খান (৩৬), তাছলিমা (৩৪), নুরজাহান (৬২) অভিযুক্ত করে ধর্ষন ও হত্যা মামলা দায়ের করেন। আসামীরা প্রভাবশালী ও বৃত্তবান হওয়ায় তারা ধরা ছোয়ার বাইরে রয়েছে। দীর্ঘ দিন অপেক্ষায় থাকার পরেও থানা পুলিশ কোন আসামীকে গ্রেফতার না করায় বাদী (তাছলিমা বেগম) সঠিক বিচারের আশায় মামলটি ডিবির কাছে হস্তান্তর করার জন্য বরিশাল পুলিশ সুপারের কাছে আবেদন করেন, এখন বর্তমানে ডিবির কাছে মামলটি রয়েছে।

মামলার বাদি তাছলিমা বেগম বলেন, আসামীদের সাথে আমাদের জমি জমা নিয়ে পূর্ব শত্রুতা ছিলো। আসামী সাইফুল ইসলাম ওরফে সাইদুল ঘটনার ৪দিন আগে তামান্নাকে কুপ্রস্তাব দেয়। এবং তা নিয়া আমাদের সাথে ঝগরা হয়। ঘটনার দিন আমি ডাক্তারের বাড়ি কাজে যাই এবং ছেলে ও ছোট মেয়ে ওর নানা বাড়ি বেড়াতে যায় এবং আমার স্বামী ভ্যান গাড়ি চালতে বাহিরে যায়। তামান্না প্রাইভেট পড়া বাড়ি ফিরলে আসামী সাইদুল শারীরিক ও মানষিক ভাবে নির্যাতন করলে তামান্না ডাক চিৎকার করলে সকল আসামীরা মিলে শ্বাসরোধে হত্যা করে রুয়ার সাথে ঝুলিয়ে রাখে। পরে তামান্না আত্নহত্যা করেছে বলে প্রচার করে।

নিহতের মা তাছলিমা বেগম অভিযোগ করেন, আসামীরা প্রভাবশালী হওয়ায় অর্থের মাধ্যমে প্রশাসনকে ম্যানেজ করার কারনে আসামীরা ধরা ছোয়ার বাহিরে এবং আসামীর মধ্যে তিন জন আগাম জামিনে এসে বাদী পক্ষকে মামলা তুলে নেয়ার জন্য প্রান নাশের হমকি দিয়ে আসছে।

তিনি অরো বলেন, আমরা গরীব দিন আনি দিন খাই। পরের বাড়ি কাজ করি আমার স্বামী ভ্যান চালায় তা দিয়ে কোন রকম সংসার চালাই। আমার মেয়ে তামান্না হত্যারর সঠিক বিচার পেলে ওর আত্যা শান্তি পাবে । বলতে বলতে কান্নায় ভেঙ্গে পরেন নিহতের মা তাছলিমা বেগম।

নিহত স্কুল ছাত্রীর পিতা মঞ্জু চৌকিদার জানান, ১১ মাসেও হত্যাকারীদের কেউ গ্রেফতার না হওয়ায় আদৌ বিচার পাবেন কিনা তা নিয়ে তাদের মধ্যে নানা শঙ্কা বিরাজ করছে।

এ ব্যাপারে মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল আহসান জানান, ময়নাতদন্তের রির্পোটে কোন ধর্ষণ ও হত্যার আলামত পাওয়া যায়নি। তাই দোষীদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ৭ নভেম্বর রাত নয়টার দিকে মুলাদী থানা পুলিশ উপজেলার কাজিরচর ইউনিয়নের ডিক্রিরচর গ্রামের বাসিন্দা মঞ্জু চৌকিদারের বসত ঘর থেকে তার মেয়ে তামান্না আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here