বরিশাল সদর উপজেলা চরকাউয়া ইউনিয়নের চরআইচা গ্রামের আলতাফ খানের ছেলে রাসেল খানের সাথে পারিবারিক ভাবে বিবাহ হয় তানিয়ার।

গত বছরের ৩ আগষ্ট বিয়ে হয় তাদের । সংসার বেশ ভালোই চলছিলো তানিয়া ও রাসেলের। কিন্তু হঠাৎ পারিবারিক বিরোধের কারণে স্ত্রীর মর্যাদা থেকে বঞ্চিত হয় বরিশাল সদর উপজেলার চাঁদপুরা ইউনিয়নের নৈমিত্র গ্রামের মোতালেব হাওলাদারের কলেজ পড়ুয়া মেয়ে তানিয়া আক্তার।

দরিদ্র ঘরের মেয়ে জেনেও প্রস্তাবের মাধ্যমে তানিয়াকে বিয়ে করেন রাসেল খান। তানিয়া গরিব ঘরের কন্যা হওয়ায় এখন তাকে মেনে নিতে চাইছেন না রাসেল ও তার পরিবার ।

এতে তানিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মাঝে পড়ে যায়। সূত্র জানা গেছে, তানিয়া ও রাসেল ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক দেড় লক্ষ টাকা দেনমোহরে তানিয়াকে বিয়ে করে। কিন্তু বিয়ের ৬-৭ মাস যেতে না যেতেই গা-ঢাকা দে রাসেল। স্বামীকে কোথাও খুজে পাওয়া যায় তানিয়া ।

জানাগেছে রাসেলের সাথে তানিয়ার বিয়ে হওয়ার ২ মাস পার হতে না হতেই রাসেল ব্যাবসা করার নাম করে তানিয়া ও তার পরিবারের কাছ থেকে ৭৬ হাজার টাকা নেয় ।

এদিকে নাম প্রকাশ না করে শর্তে চরআইচা এলাকাবাসী বলেন, রাসেল আরও ২-৩ টি বিয়ে করেছেন। এমনকি বিয়ে করার নামে মেয়ে পক্ষের কাছ থেকে টাকা হাতানো হচ্ছে তার মূল পেশা । সুত্রমতে আরও জানা গেছে রাসেল বিভিন্ন নেশা করে এবং বাসায় এসে বউকে মারধর করে, যার সাক্ষি আছেন রাসেলের বর্তমান স্ত্রী তানিয়া।

তানিয়া আরও বলেন আমার মায়ের কাছ থেকে আবার ৫০ হাজার টাকা এনে দেওয়ার জন্য আমাকে মানসিকভাবে নির্যাতন করে রাসেল । আমার পরিবারের পক্ষ টাকা দেয়া সম্ভব হবে না বলে জানালে আমাকে স্ত্রীর হিসাবে মানতে নারাজ ।

এখন স্ত্রী’র মর্যাদা পেতে সমাজপতিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে যাচ্ছি কিন্তু কোন লাভ হয় না তাতে । কিছুতেই কোন কাজ হচ্ছে না, সকলের দ্বারে দ্বারে গিয়েও ব্যর্থ হচ্ছে তানিয়া ও তার পরিবার।

এ ব্যাপারে তানিয়ার মা জানায়, তার স্বামী অসুস্থ, সন্তানদের নিয়ে খুবই কষ্টের মধ্যে দিয়ে সংসার চালাচ্ছেন তিনি। তাদের দারিদ্রতার সুযোগ নিয়ে রাসেল তার মেয়েকে টাকা দেওয়ার জন্য মানসিকভাবে চাপ প্রয়োগ করে ।

তিনি আরো বলেন, রাসেলের বাবা আলতাফ খানের সাথে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে গেলে তিনি তাদের বাড়ি থেকে আমাদের তারিয়ে দেন। আলতাফ খান গ্রামের প্রভাবশালী ব্যক্তি হওয়ায় তাদের সাথে এই বিষয়ে আলোচনা করতে রাজি হয় না ।

এ বিষয়ে তানিয়া আক্তার জানান, তাদের দারিদ্রতার সুযোগ নিয়ে তার সাথে রাসেল প্রতারণা করছে। তানিয়া আরো জানায়, গোপনে রাসেল তার বাবা মায়ের সাথে যোগাযোগ করে। সঠিক বিচার পেতে সরকারের উপর মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেন অসহায় তানিয়া ও তার পরিবার।

এবিষয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম মোস্তফা হায়দার বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই, তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যাবস্থা নেয়া হবে ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here