শামীম আহমেদ ॥ বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার ৫০ শয্যা হাসপাতালের মঙ্গলবার বিকেল র্পাঁচটার দিকে ছাদ ভেঙ্গে পরে পাঁচজন ভর্তি রোগী আহত হয়েছে। এসময় আতংকিত রোগী ও স্বজনরা দ্বিগবিদিক ছোটাছুটি করে। তাৎক্ষনিক দুর্ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতাল পরিবদর্শন করেছেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রইচ সেরনিয়াবাত।

 

প্রত্যক্ষদর্শী ও আহত রোগীরা জানান, বিকেল পাঁচটার দিকে আকস্মিকভাবে হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার পুরুষ ওয়ার্ডের ছাদ ভেঙ্গে পরে। ছাদ ভেঙ্গে পরে পুরুষ ওয়ার্ডের ভর্তি হওয়া রোগী উপজেলার বারপাইকা গ্রামের পরিমল বিশ্বাসের পুত্র প্রকাশ বিশ্বাস ও তার ভাই সজল বিশ্বাস, রাংতা গ্রামের সায়মন ইসলাম লিমন, জোবারপাড় গ্রামের শষ্ঠী চরণ বৈরাগীর পুত্র জীতেন্দ্র নাথ বৈরাগী, দক্ষিন শিহিপাশা গ্রামের নাসির উদ্দিনের পুত্র মোফাচ্ছের হাওলাদার আহত হয়েছে। আহত রোগীদের তাৎক্ষনিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে।

 

উপজেলা হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ বখতিয়ার আল মামুন হাসপাতালের ছাদ ভেঙ্গে পরে রোগী আহত হওয়ার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, স্বাধীনতার পরেই সরকার ১৯৭২ সালে উপজেলার গৈলা এলাকায় ৩১শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মান করে। স্থানীয় এমপি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর প্রচেষ্টায় ২০০৪ সালে ৩১ শয্যার ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিকে ৫০ শয্যার হাসপাতালে উন্নীত করা হয়েছে।

 

৪৮ বছর আগে নির্মিত হাসপাতালের মুল ভবন অনেক আগেই জরাজীর্ণ হয়ে পরে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবহিত করার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা হাসপাতালের নতুন ভবন নির্মানের আশ্বাস দিলেও অদ্যবর্ধি নির্মিত হয়নি নতুন ভবন। জরাজীর্ণ ওই পুরান ভবনেই চলছে রোগীর চিকিৎসা সেবার কাজ। একইসাথে চিকিৎসকদের জন্য নির্মিত আবাসিক ভবনগুলো অনেক আগেই পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। ওই পরিত্যাক্ত ভবনেই বাধ্য হয়েই থাকতে হচ্ছে চিকিৎসকদের।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, ২০১৯ সালের ১ ফেব্রুয়ারী হাসপাতাল পরিদর্শন করেন তৎকালীন স্বাস্থ্য মন্ত্রীর ব্যাক্তিগত সহকারী খায়রুল আহসান। এর আগে ২০১৮ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর হাসপাতাল পরিদর্শনে আসেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন অতিরিক্ত সচিব মোঃ মোস্তাক হাসান।

 

তিনি হাসপাতালের নতুন ভবন নির্মানসহ চিকিৎসক ও জনবল সংকটসহ সকল সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে গেলেও কার্যত তার ওই সফরের কোন সুফল পায়নি আগৈলঝাড়ার সাধারণ জনগন। আজও নির্মিত হয়নি নতুন ভবন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here