র‌্যাব-৮, বরিশাল কর্তৃক বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ থানা এলাকা থেকে বরগুনা জেলার
সদর থানাধীন কেওড়াবুনিয়া এলাকায় সাহেবের হাওলা রাফেজিয়া দাখিল
মাদ্রাসার ৮ম শ্রেণীর ছাত্রীকে গাইড দেওয়ার কথা বলে নিজ রুমে ডেকে নিয়ে
মাদ্রাসা শিক্ষক কর্তৃক ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামী গ্রেফতার।

র‌্যাব প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই ডাকাত, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, জঙ্গি দমন, অবৈধ
অস্ত্র উদ্ধার, মাদক ব্যবসায়ী, প্রতারকচক্র, ভিকটিম উদ্ধার, ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনসহ
বিভিন্ন অপরাধীদের গ্রেপ্তারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। গোয়েন্দা নজরদারী ও
আভিযানিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় এ ধরণের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে র‌্যাব ইতিমধ্যেই
বিশেষ সফলতা অর্জনে সক্ষম হয়েছে।

গত ২০ তারিখ বরগুনা জেলার সদর থানাধীন কেওড়াবুনিয়া এলাকায়
সাহেবের হাওলা রাফেজিয়া দাখিল মাদ্রাসার ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী মোসাঃ ঝুমুর(১৩)কে
গাইড দেওয়ার কথা বলে মাদ্রাসার পিছনের একটি বসতবাড়িতে ডেকে নিয়ে মাদ্রাসা
শিক্ষক সাইফুল ইসলাম জোর পূর্বক ধর্ষণ করেন এই বিষয়ে সদর থানায় একটি মামলা
দায়ের হয়।

ধর্ষণের ফলে উক্ত ভিকটিমকে গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসার জন্য বরগুনা জেলার সদর হাসপাতালে
ভর্তি করানো হয়। পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-
বাংলা মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতালে রেফার্ড করেন। এই বিষয়টি বিভিন্ন পত্র-
পত্রিকার শিরোনামে আলোড়ন সৃষ্টি করে। উক্ত ঘটনার সাথে জড়িত আসামীদের
গ্রেফতারের ব্যাপারে প্রথম থেকেই র‌্যাব-৮ তৎপর ছিল। উক্ত মামলার প্রধান আসামী মোঃ
সাইফুল ইসলাম ধূর্ত, বিচক্ষণ ও বুদ্ধিমান হওয়ার কারণে সে বিভিন্ন সময়ে তার
অবস্থান ও মোবাইল নম্বর পরিবর্তন করতে থাকে। একারণে তাকে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায়
আরও আগেই গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তারপরও র‌্যাব-৮ সাইফুলকে গ্রেফতারের
কার্যক্রম চালিয়ে যেতে থাকে।

পরবর্তীতে গত ২০তারিখ রাত অনুমান ২৩.৩০
ঘটিকার সময় বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ থানা এলাকায় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে একটি
চেকপোষ্ট স্থাপন করা হয়। র‌্যাবের চেকপোষ্ট চলাকালীন সময়ে ২১/০২/২০১৯ তারিখ ০০.৩০
ঘটিকার সময় র‌্যাবের চেকপোষ্ট দেখে একজন ব্যক্তি দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে র‌্যাব
সদস্যরা তাকে আটক করে। পরবর্তীতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, তার নাম মোঃ
সাইফুল ইসলাম(৩০), পিতাঃ মাওলানা মোঃ ইব্রাহিম খলিল, সাংঃ সাহেবের হাওলা, ০৩ নং
ফুলঝুড়ি ইউনিয়ন, থানাঃ সদর, জেলাঃ বরগুনা। তখন তাকে বরগুনা জেলার সদর থানার মামলা নং
২৩, তারিখ ২০ জানুয়ারি ২০১৯, জিআর নং-২৩/১৯, তারিখ ২০ জানুয়ারি ২০১৯, ধারাঃ

নারী ও শিশু নির্যাতন আইন ২০০০ এর ৯(১)/৩০ তৎসহ ২০১ পেনাল কোড এর ০১ নং
আসামী হিসেবে সনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে উক্ত আসামী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে।
৩। উক্ত আসামীকে বরগুনা জেলার সদর থানায় হস্তান্তর কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। র‌্যাবের এই
ধরণের আভিযানিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here