ঈদুল ফিতরের বাকি আর মাত্র কয়েক দিন। এখন বরিশাল-ঢাকা ‌লঞ্চ টার্মিনাল তেমন ভিড় নেই। তবে মাঝে মাঝে অগ্রিম টিকিট নিতে কিছু মানুষকে আসতে দেখা যাচ্ছে। লঞ্চ সংশ্লিষ্টরা বলছেন ঈদ উপলক্ষে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির কেবিনের সকল আগাম টিকিট বুকিং ও বিক্রি শেষ।

তবে লঞ্চের ডেকের সিট ফাঁকা আছে। সাধারণত ডেকের অগ্রিম টিকিট দেয়া হয় না। ইনস্ট্যান্ট টিকিট কেটে যাত্রা করতে হয়। লঞ্চের এসব ডেকের মূল যাত্রী নিম্ন আয়ের মানুষ ও গার্মেন্টস কর্মীরা তারাই মূলত কম টাকায় ডেকের টিকিট কেটে ঈদযাত্রা করবেন।

সোমবার (২৭ মে) সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল সরেজমিন দেখা যায়, টিকিট বিক্রির পাশাপাশি শেষ সময়ে ঈদকে সামনে রেখে চলছে লঞ্চ মেরামতের কাজ। লঞ্চগুলো আকর্ষণীয় করতে মালিকদের চেষ্টার যেন কমতি নেই। দ্রুত কাজ সম্পন্ন রাখছেন বিশেষ নজর।
ঈদ উপলক্ষে লঞ্চ ভেদে ভাড়ার তারতম্য রয়েছে। ডেকের ভাড়া ২৫০ থেকে ৩০০টাকা, সিঙ্গেল কেবিন ১১০০ থেকে ১২০০ টাকা, ডাবল কেবিন ২২০০ থেকে ২৪০০টাকা এবং ভিআইপি কেবিন ৪০০০ হাজার থেকে ৭০০০ হাজার টাকার মধ্যে।

ঢাকা নদী বন্দর সূত্রে জানা যায়, আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঢাকার সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল থেকে ৪২ রুটে লঞ্চ চলাচল করবে। সব মিলিয়ে ২০০ থেকে ২১০ টির মত ছোট বড় লঞ্চ ৮০ টিরও বেশি ট্রিপ দিবে ঈদযাত্রায়।

সুন্দরবন-১১ ঢাকা-বরিশাল রুটের টিকিট বিক্রির দায়িত্বে থাকা মো. কাদের বলেন, ‘১৫ রমজানের পর থেকেই আগাম টিকিট বিক্রি শুরু করেছি। আমাদের প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর কেবিনের সকল টিকিট বিক্রি সম্পন্ন হয়েছে। তবে ডেকের আগাম টিকিট বিক্রি করি না। প্রতিদিন লঞ্চ ছাড়ার আগে ডেকের টিকিট কেটে নিজ গন্তব্যে যেতে পারবেন যাত্রীরা। আর ঈদের সময় আমাদের এখানে ডেকের যাত্রী গার্মেন্টস কর্মীরাই বেশি থাকেন।’

শফিকুল ইসলাম সুরভী-৯ লাঞ্চের টিকিট বিক্রেতা বলেন, ‘আমাদের লঞ্চ ঢাকা-বরিশালে চলাচল করে। ঈদ উপলক্ষে লঞ্চে যাত্রীদের নিরাপদে ভ্রমণের জন্য পর্যাপ্ত বয়াসহ অন্যান্য সরঞ্জাম ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আমাদের কেবিনের আগাম টিকিট বিক্রির কাজ শেষ। তাছাড়াও কলকারখানা ও গার্মেন্টসগুলো বন্ধ হলে তখন নিম্নআয়ের মানুষ ও গার্মেন্টস কর্মীদের ঘরমুখো যাত্রীর চাপ আরও বৃদ্ধি পাবে।’

দক্ষিণাঞ্চলগামী লঞ্চের অগ্রিম টিকিট কাটতে সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘কিছুদিন আগে অনলাইনে লঞ্চের টিকিট বুকিং দিয়েছিলাম আজ টিকিট নিতে এসেছি। এবার সদরঘাটের পরিবেশ বেশ ভালো। হকারদের তেমন উৎপাত দেখা যাচ্ছে না। আশা করছি ঈদের মূল যাত্রা শুরু হলে সদর ঘাটে যাত্রী চাপ বাড়লে কর্তৃপক্ষ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে কাজ করবে।’

পারাবত ১৫ লঞ্চের সুপারভাইজার মো.ফইজুল মিয়া বলেন, ‘ঈদকে সামনে রেখে অফিস আদালত ছুটি হওয়ার পরেই প্রতিবছর ঘরমুখো মানুষের ঢল নামে বিশেষ করে কলকারখানা ও গার্মেন্টস যেদিন ছুটি হয় সেদিন বিকেল থেকে সদরঘাটে ঢল নামে ঘরমুখো যাত্রীদের। এবার ৩০, ৩ এবং ৪ তারিখে যাত্রী চাপ বাড়তে পারে।’

সদরঘাট এলাকায় ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে পুলিশ, র‌্যাব, আনসার, বিআইডব্লিউটি এর ম্যাজিস্ট্রেটসহ লঞ্চঘাটের বিভিন্ন স্থানের নিরাপত্তা এবং দুর্ভোগ এড়াতে সর্বদা তৎপর থাকবে। এছাড়া সদরঘাট টার্মিনাল এখন পুরোপুরি হকারমুক্ত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here