প্রতিষ্ঠার ৫০ বছর পেরিয়ে গেলেও বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজে একটি দিনের জন্য ১০ বিভাগে ১৯৭ শিক্ষক পদের অর্ধেকও পূরণ হয়নি। আর শিক্ষক সংকটের মধ্যেই ৪৪তম ব্যাচ পর্যন্ত ৮ হাজার ৯৫৬ শিক্ষার্থী এমবিবিএস পাশ করেছে। বর্তমানে ৫০তম ব্যাচ পর্যন্ত ১২শ’ শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত আছে। এনিয়ে আবেদন-নিবেদন করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

১৯৬৪ সালে কলেজটি স্থাপন করা হলেও এর কার্যক্রম শুরু হয় ১৯৬৮ সালে। ওই সময় কলেজের ৫টি ব্যাচের শিক্ষার্থীদের বিষয়ভিত্তিক পাঠ দানের জন্য অভিজ্ঞ শিক্ষকদের প্রাধান্য দিয়ে অর্গানোগ্রাম তৈরী হয়। সেই অনুযায়ী প্রথম থেকে ৫ম পর্ব পর্যন্ত প্রতিটি পর্বে প্রতিদিন ৪টি করে ক্লাস রাখা হয়। কিন্তু মেডিকেল কলেজ শুরু থেকেই অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীদের প্রতিদিনের রুটিন মাফিক ক্লাস নেয়া সম্ভব হয়নি। গড়ে প্রতিদিন ২টির বেশি ক্লাস পাচ্ছে না শিক্ষার্থীরা। এ অবস্থা চলে আসছে বছরের পর বছর ধরে।

চার মাস থেকে শূন্য অধ্যক্ষের পদটি। এছাড়া অধ্যাপকের ৩০টি পদের মধ্যে ২২টি শূন্য, সহযোগী অধ্যাপকের ৪২টি পদের মধ্যে ২৪টি, সহকারী অধ্যাপকের ৬৮টি পদের মধ্যে ৪২টি, মেডিকেল অফিসারের ৬টির মধ্যে ২টি এবং বায়োকেমেষ্ট্রির ১টি পদের মধ্যে ১টি শূন্য। এমনকি ডেন্টালে ৪টি পদের মধ্যে ৪টিই শূন্য রয়েছে।

দেশে মেডিকেল কলেজ বাড়লেও শিক্ষক বাড়েনি। আর শিক্ষক সংকটের মধ্যেই প্রতি বছর সার্টিফিকেট সর্বস্ব এমবিবিএস পাসকৃত চিকিৎসক বের হচ্ছে, বললেন ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। মেডিকেল শিক্ষায় অভিজ্ঞ শিক্ষক জরুরী। এরপরও শিক্ষক সংকটের বিষয়টি উপর মহলে বারবার অবহিত করা হলেও সাড়া মেলেনি বললেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ। এদিকে, দুই বছর আগে মেডিকেল কলেজে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের মানবিক গুণাবলীসম্পন্ন চিকিৎসক হওয়ার জন্য বিহেভিয়ার সায়েন্স চালুর উদ্যোগ নেয়া হলেও আজও তা বাস্তবায়ন হয়নি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here