বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে রোগীর সংখ্যার তুলনায় হাসপাতালটিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরিমাণ অপ্রতুল। প্রায় অধিকাংশ রোগীকেই বাইরে থেকে বেশি দামে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হচ্ছে। এর সাথে যোগ হয়েছে হাসপাতালের কিছু অসাধু কর্মচারীর পরীক্ষা-নিরীক্ষার মেশিনের খুচরো যন্ত্রাংশ বাইরে বিক্রি করে টু-পাইস কামানোর ধান্দা। আবার ডায়াগনষ্টিক সেন্টারগুলো ন্যায্যমূল্য রাখছে কি না তাও দেখার কেউ নেই। ফলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার টাকা দিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন সাধারণ রোগীরা। এ যেন ‘মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা’।

গত কয়েকদিনে শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ভর্তি রোগীদের সাথে কথা বলে এ তথ্য পাওয়া গেছে। খালেক প্যাদা (৪৪)। পেশায় দিন মজুর এই ব্যক্তি একশিরা অপারেশনের জন্য ভর্তি হয়েছিলেন শেবাচিম হাসপাতালে। খালেক প্যাদা বলেন, অপারেশনের আগে পরীক্ষা-নিরীক্ষা বাবদ তার সাড়ে ৮ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এরপর এ পর্যন্ত তাকে ২০ হাজার টাকার ওষুধ কিনতে হয়েছে। একেকটি নর্মাল পরীক্ষা ৮০ টাকা থেকে সাড়ে ৩শ’ টাকায় করা লাগছে, সেই সাথে দামি পরীক্ষা-নিরীক্ষা তো আছেই। অপর রোগী সাজরিনি আক্তার তিনি বলেন, দুই পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া বাকি সব পরীক্ষা-নিরীক্ষাই বাইরে থেকে টাকার বিনিময়ে করতে হয়েছে। প্রতিবেশীদের কথায় বুঝেছিলাম সরকারি হাসপাতালে কম খরচের মধ্যে সেবা পাবো। কিন্তু সব টাকা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে করতে শেষ হয়ে যাচ্ছে। তাহলে এখানে এসে লাভ কি হলো। জানা গেছে, শেবাচিম হাসপাতালে রোগীর চাহিদার তুলনায় পরীক্ষা-নিরীক্ষার মেশিন অপ্রতুল।

প্রতিদিন ১৫শ’ থেকে ১৮শ’ রোগী পর্যন্ত ভর্তি থাকেন। ফলে পর্যাপ্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার মেশিন না থাকার কারণে অধিকাংশ রোগীকে দামি পরীক্ষা-নিরীক্ষা বাইরে থেকে করতে হচ্ছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার মেশিন কম থাকার সুযোগে শেবাচিম হাসপাতালের কিছু অসাধু কর্মচারী কৌশলে মেশিনের খুচরো যন্ত্রাংশ ও ফিল্ম চুরি করে বাইরে বিক্রি করছেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত এক মাসে এক্ষ-রে বিভাগে, প্যাথলজি বিভাগে, ব্লাাড ব্যাংক বিভাগে সহস্রাধিক রোগীর রিপোর্ট প্রদান করা হয়েছে। তবে এসব বিভাগে পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্টের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। টাকার বিনিময়ে আবার দ্রুত রিপোর্ট প্রদান করা হয়। বাইরের ডায়াগনষ্টিক সেন্টারগুলোর রিপোর্ট্ও হাসপাতালেল মেশিনে প্রস্তুত করা হয়।

এক্স-রে বিভাগের বাবুল আক্তার ও গোলাম মোস্তফা,প্যাথলজি বিভাগের আশিষ কুমার সোম,ব্লাাড ব্যাংক বিভাগের নান্নান,হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা সুলতান আহমেদ,রেন্ট সেকশনের খোকন এসব দুর্নীতী করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে । বিষয়টি নিয়ে কথা বলার জন্য এক্ষ-রে বিভাগে দায়িত্বে থাকা ডাঃ মাকসুমুল হকের মুটোফোনে একাধিকবার কল করা হল্ওে তা বন্ধ প্ওায়া যায়। পরে এক্ষ-রে বিভাগের ইনচার্জ বাবুল আক্তারের সাথে কথা হলে তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,‘বাইরে থেকে ফ্লিম এনে এখান থেকে কোনো রিপোর্ট প্রদান করা হয় না।’

শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর মামা আবুল বাশার জানান, ভেতর থেকে কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পরও অপারেশনের আগে বাইরে থেকে প্রায় ৪ হাজার টাকার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হয়েছে। শুধু যে অপারেশনেই পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে বেশি টাকা লাগছে তা নয়, অনেক সময় অপারেশন ছাড়াও রোগীদের চড়া মুল্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হচ্ছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ডায়াগনষ্টিক সেন্টারগুলোতে যখন ক্রেতা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন, তখন ওই পরীক্ষা-নিরীক্ষার দাম ধরা হয় ইচ্ছেমতো। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় বেধে দেয়া মুল্যের চেয়ে বেশি ধরা হচ্ছে কী না বোঝার উপায় নেই রোগী ও তার স্বজনের পক্ষে।

শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ মোঃ বাকির হোসেন বলেন, ‘উপরোল্লিখিতদের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকার পরও পর্যাপ্ত লোকবলের কারনে তাদেরকে সরানো সম্ভব হচ্ছে না। তবে রোগী ও তাদের স্বজনদের সতর্ক করতে এসব বিভাগের সামনে হ্যান্ড মাইকিং করা হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, এসব কর্মচারীরা বাইরে থেকে ফিল্ম কিনে হাসপাতালের মেশিনের মাধ্যমওে রিপোর্ট প্রদান করে থাকে। খুব শীঘ্রই এসব দুর্নীতীবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here