ফেসবুকে ধর্মীয় বিষয় নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট দেয়ার প্রতিবাদে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় মুসল্লিদের সমাবেশে পুলিশ ও জনতার সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ চার শিশুসহ ৩১ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় হাসপাতালে শতাধিক ব্যক্তিকে ভর্তি করা হয়েছে।

রোববার দুপুরে ৩১ জনকে গুরুতর অবস্থায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা যায়।

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. এসএম বাকির হোসেন বলেন, রোববার বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত গুলিবিদ্ধ চার শিশুসহ ৩১ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। একজনের গলায় গুলি লেগেছে। তাকে নাক, কান ও গলা বিভাগে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। বাকিদের সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কয়েকজন জানান, ফেসবুকে আল্লাহ ও হজরত মুহাম্মদ (সা.) কে নিয়ে কটূক্তি করার প্রতিবাদে বিপ্লব চন্দ্র শুভর বিচারের দাবিতে সকালে ঈদগাহ মাঠে বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে তৌহিদী জনতা। সকাল ৯টা থেকে লোকজন মাঠে জড়ো হয়। এ সময় শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ সমাবেশে বাধা দেয় পুলিশ। সেই সঙ্গে তাদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করা হয়। এতে তাদের চারজন নিহত হন। পাশাপাশি শতাধিক আহত হন।

এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বোরহানউদ্দিন পৌরসভার ঈদগাহ মাঠে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহতরা হলেন- বোরহানউদ্দিন পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মাহফুজ (৪২), বোরহানউদ্দিন উপজেলার মহিউদ্দিন পাটোয়ারীর ছেলে মাহবুব (১৬), মনপুরা হাজিরহাট এলাকার বাসিন্দা মিজানুর রহমান (৪৪) ও বোরহানউদ্দিনের মো. শাহিন।

আহতদের মধ্যে ৫০ জনকে বোরহানউদ্দিন হাসপাতালে, ৪০ জনকে ভোলা সদর হাসপাতালে এবং ৩১ জনকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশের দাবি, তারা শান্তিপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখতে ঘটনাস্থলে সব কার্যক্রম পরিচালিত করছেন। হঠাৎ করে কিছু উচ্ছৃঙ্খল জনতা তাদের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সময় তাদের ধাওয়া দেয়া হয়।

পরে তারা মসজিদের দোতলায় আশ্রয় নেয়। সেখানে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে তাদের ১০-১২ পুলিশ সদস্য আহত হন। এ অবস্থায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়ার চেষ্টা করে পুলিশ। এ ঘটনায় প্রায় ১২-১৩ জনকে আটক করা হয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ভোলার পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়ছার বলেন, বিপ্লব চন্দ্র শুভ নামের এক যুবকের ফেসবুক আইডি হ্যাক হয়েছে। আমরা হ্যাকিংয়ের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের আটক করেছি। এ নিয়ে স্থানীয় আলেমদের সঙ্গে কথা বলেছি আমরা। তারা বলছে, আজকের প্রোগ্রাম হবে না। কিন্তু সকাল থেকে আমাদের কাছে খবর আসে, সেখানে মাইকিং হচ্ছে এবং স্টেজ বানানো হচ্ছে। সেখানে গিয়ে আমরা উপস্থিত মুসল্লিদের সঙ্গে কথা বলেছি। আমি নিজে সেখানে বক্তব্য দিয়েছি। তারা সবাই আমার বক্তব্য শুনেছে।

তিনি বলেন, যখন আমি স্টেজ থেকে নেমে আসি, তখন এক দল উত্তেজিত জনতা আমাদের ওপর হামলা চালায়। আমরা আত্মরক্ষার্থে একটি রুমে গিয়ে আশ্রয় নিই। যখন তারা আমাদের রুমের জানালা ভেঙে ফেলে, তখন আমরা প্রথমে শটগানের ফাঁকা গুলি ছুড়ি। এতে কাজ না হওয়ায় উপরের দিকে গুলি চালানো হয়। এতে চারজন নিহত হয়েছে। তবে কতজন আহত হয়েছে তা আমার জানা নেই। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বরিশাল বিভাগীয় ডিআইজি, জেলা প্রশাসকসহ প্রশাসনের ঊধ্বর্তন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here