গত বছর পানিতে ডুবে মারা গেছে মেজ ছেলে জিয়াদ। ওই সময় তার বয়স ছিল ৯ বছর। সেই ক্ষত এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেননি রিকশাচালক বাবা নূর ইসলাম। মেজ ছেলে মারা যাওয়ার এক বছরের মাথায় এবার হারালেন বড় ছেলেকে। আজ বুধবার বড় ছেলে রুবেল বেলুন কিনতে গিয়ে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে মারা গেছে। তিন খণ্ড হয়ে গেছে তার দেহ।

রুবেলের বাবা নূর ইসলাম জানান, তার চারটি ছেলে। গত এক বছর আগে ৯ বছরের মেজ ছেলে জিয়া পানিতে ডুবে মারা যায়। জিয়া ভোলার একটি মাদরাসায় পড়ালেখা করত। গত এক বছর আগে দুপুর বেলা মাদরাসার পাশেই একটি পুকুরে ডুবে মারা যায়।

এবার বড় ছেলে রুবেল সিলিন্ডার বিস্ফোরণে প্রাণ হারিয়েছে। বিস্ফোরণের ফলে রুবেলের শরীর তিন খণ্ড হয়ে যায়। এক সন্তানের শোক কাটতে না কাটতেই আরেক সন্তানের মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তার মা-বাবা ও স্বজনরা।

শিশু রুবেলের মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না মা পারভীন। সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে তার আর্তনাদে কম্পিত হয়ে ওঠে পুরো হাসপাতাল। ‘ওরে রুবেল রে, আমারে ছেড়ে কই গেলি রে, আমার সোনা ধন রে, আমার ময়না পাখি সোনা মানিক’ বলে আর্তনাদ করছেন। মাঝে মাঝে মূর্ছা যাচ্ছেন। শাড়িতে তার রুবেলের রক্ত মাখা।

রুবেলের রক্তে রঞ্জিত বাবা রিকশাচালক নুর ইসলাম। তার পরনের লুঙ্গি ও গেঞ্জি সন্তানের রক্ত লেগে শুকিয়ে গেছে। অশ্রুসিক্ত বাবা রুবেলের মাকে সান্ত্বনা দেয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

রাজধানীর রূপনগরে গ্যাস সিলিন্ডারের ভয়াবহ বিস্ফোরণে পাঁচ শিশু নিহত হয়েছে। বুধবার বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা সবাই পাশের শিয়ালবাড়ি বস্তির বলে জানা গেছে। তারা হলো- রায়হান (৮), নূপুর (৭), শাহীন (৯), ফারহানা (৬) ও অজ্ঞাত (৭)।

এ ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। রূপনগর থানার এসআই সুমন জানিয়েছেন, বেলুন বিক্রেতার কাছে থাকা সিলিন্ডার বিস্ফোরণে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।

আহতদের কয়েকজনকে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতরা হলেন- জান্নাত (২৫), জুবায়ের (৮), সাদেকুর (১০), নাহিদ (৭), জামিল (১৪), মরিয়ম (৮/৯) ও অজ্ঞাত (৩০)।

ফায়ার সার্ভিস কন্ট্রোল রুমের ডিউটি অফিসার রাসেল শিকদারও ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ঘটনাস্থল রূপনগরের ১১ নম্বর রোডে মনিপুর স্কুলের পাশে। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে হতাহতদের উদ্ধার করেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here