অনলাইন ডেস্ক : ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার ছাত্রী নুসরাত হত্যার ঘটনায় পুলিশের গাফিলতি তদন্ত কমিটির প্রধান পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি রুহুল আমিন বলেছেন, ২৭ তারিখের যৌন হয়রানির ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন, ম্যানেজিং কমিটি ব্যবস্থা নিলে নুসরাতের গায়ে আগুনের ঘটনা এড়ানো যেত। বৃহস্পতিবার বিকালে দুই দিনব্যাপী ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও তদন্ত শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, প্রাথমিকভাবে নুসরাতের ঘটনায় সোনাগাজী থানার সাবেক ওসির ত্রুটি বিচ্যুতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। ওসি সহ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তার গাফিলতির বিষয়ে তদন্ত চলছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত কার্যক্রম শেষ হতে আরো তিন-চার দিন সময় লাগতে পারে। নথিপত্র যাচাই-বাচাই চলছে। সাধারন একটি মামলা তদন্ত করতে এক মাস সময় লাগে। এটি একটি বড় ঘটনা, তাই কিছুটা সময় লাগবে। অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অনেক খারাপ হিস্ট্রি রয়েছে। যা গভর্নিং বডির সদস্যরাও জানতো। যদি তার ব্যপারে আগে ব্যবস্থা নেয়া হতো তাহলে আজকে এ ধরণের ঘটনা ঘটতো না। এই ঘটনার সঙ্গে স্থানীয় রাজনীতির বিষয়ও জড়িত রয়েছে। একই দলের দুইজন কাউন্সিলর অধ্যক্ষের পক্ষে বিপক্ষে মানববন্ধন করেছে। প্রাথমিকভাবে সত্যতা পাওয়া গেছে। সাক্ষ্যগ্রহন চলছে পুরোপুরি তদন্ত শেষে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পাশাপাশি গণমাধ্যম কর্মীদের আনুষ্ঠানিক জানানো হবে।

ডিআইজির নেতৃত্বে একজন পুলিশ সুপার, দুজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও একজন পরিদর্শক এ তদন্তে উপস্থিত ছিলেন। মাদরাসার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে বুধবার ও বৃহস্পতিবার তারা মাদরাসার শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ঘটনা সম্পর্কে তাদের মতামত গ্রহন করেন। এর আগে বুধবার রাফির বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। সেখান থেকে সোনাগাজী আল-হেলাল একাডেমী সংলগ্ন সামাজিক কবরাস্থানে গিয়ে রাফির কবর জেয়ারত করেন। বৃহস্পতিবারও কর্তব্যরত পুলিশ সদস্য, রাফির পরিবার, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও কর্মচারীদের মতামত গ্রহণ করেন।

সূত্র জানায়, চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের তদন্তের দায়িত্ব নেওয়ার তিন দিন পর পিবিআইয়ের প্রধান বনজ কুমার মজুমদার প্রাথমিক তদন্তের বিষয়গুলো উল্লেখ করে পুলিশ মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) একটি প্রতিবেদন দেন। প্রতিবেদনে সোনাগাজীর ওসিসহ স্থানীয় প্রশাসনের গাফিলতির বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

বর্তমান কমিটিও ঘটনার প্রকৃত কারণ উৎঘাটনসহ প্রশাসনের কোনো ধরনের গাফিলতি ছিল কিনা তা খতিয়ে দেখেন। তদন্ত কমিটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইজিপি জাবেদ পাটোয়ারীর কাছে তদন্ত প্রতিবেদন পেশ করবেন বলে জানিয়েছেন। পুলিশের আইজিপি জাবেদ পাটোয়ারির নির্দেশে এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। এর আগে গত ১২ এপ্রিল শুক্রবার মানবাধিকার কমিশনের একটি তদন্ত দল তদন্ত করে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশকে দায়ী করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। তারা তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন গত ২৭ মার্চ নুসরাতকে মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার শ্লীলতাহানির চেষ্টার ঘটনায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত কার্যকরী ব্যবস্থা নিলে হয়তো নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়ার ঘটনা এড়ানো যেত।

এ ঘটনার জন্য স্থানীয় প্রশাসন দায় এড়াতে পারেনা। ৬ এপ্রিল নুসরাতকে মাদরাসার ছাদে ডেকে নিয়ে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। গত বুধবার রাতে নুসরাত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০এপ্রিল রাত সাড়ে নয়টায় মারা যান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here