বরিশাল জেলা প্রশাসক এস.এম অজিয়র রহমান বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী আমাদের দারিদ্র সিমায় বাস করা মানুষগুলোকে উপরে নিয়ে আসার জন্য আপনাদেরকে সাথে নিয়ে কাজ করছে। কারো কাজের দিকে না তাকিয়ে নিজের শক্তিকে ভাল কাজে লাগালে সহজেই দরিদ্রতা দূর করা সম্ভব।

এসময় জেলা প্রশাসক ব্রাকের সহায়তায় অতি দারিদ্র থেকে স্বাবলম্বী হওয়া উঠান বৈঠকে মহিলাদের বলেন, শুধু খেয়াল রাখবেন আপনার সংসারে স্বামী সন্তানসহ কেহ যেন মাদকাশক্তিতে জড়িয়ে না পড়ে সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। তাহলে সেই সংসারে সুখ শান্তি থাকবে না।

পাশাপাশি কোন প্রকার আপনারা সন্তানদের বাল্য বিবাহ দেবেন না। এবং যেখানে বাল্য বিবাহ দেখবেন সেখানেই প্রতিরোধে এগিয়ে আসার জন্য আহবান জানান।

অন্যদিকে দেশ জুড়ে অতি দারিদ্রতা নিরসনে ব্রাকের কার্যক্রমে প্রশংসা করে জেলা প্রশাসক এস.এম অজিয়র রহমান আরো বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রীর টেকসই উন্নয়ন অভিষ্ট অর্জনে সরকারের পাশাপাশি ব্রাকের আলট্রা-পুওর গ্যাজুয়েশন প্রোগ্রামের মাধ্যমে দারিদ্র বিমোচনে দেশের জন্য এক গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি মনে করেন।

আজ বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে বরিশাল সদর উপজেলার চরবাড়িয়া ইউনিয়নের মুকুন্দপট্রি এলাকায় ব্রাকের আয়োজনে এক উঠান বৈঠকে উক্ত গ্রামের মহিলারা ব্রাকের সহায়তায় গবাদী পশু পেয়ে অতি দারিদ্র থেকে স্বাবলম্ভি হওয়া মহিলাদের উদ্দেশ্যে এসব কথা বলেন। এবং সে সময় তিনি মহিলাদের গবাদী পশুর খামারগুলো পরিদর্শন করেন।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন- জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ আরোয়ার হোসেন, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর উপ-পরিচালক শোয়েব ফারুক, সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা জাহানারা পারভিন, বরিশাল জেলা ব্রাক প্রতিনিধি রিপন চন্দ্র মন্ডল, জোনাল ম্যানেজার আলট্রা-পুওর গ্যাজুয়েশন প্রোগ্রাম মোঃ খাইরুল ইসলাম।

এসময় ব্রাকের কর্মকর্তারা জেলা প্রশাসককে অবহিত করে বলেন, জাতীসংঘ এ বছরে দারিদ্র বিমোচন দিবসের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে পরিবার শিশু, ও সমাজের ক্ষমতায়ন, সকলের অংশগ্রহনে দারিদ্র বিমোচন।

তারই ধারাবাহিকতায় বরিশাল ব্রাকের আলট্রা পুওর গ্যাজুয়েশন প্রোগামের মাধ্যমে বরিশাল জেলাসহ ৪৩টি জেলায় জেলা প্রশাসনের সহযোগীতায় কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত জেলায় আলট্রা-পুওর গ্যাজুয়েশনের মাধ্যমে ১৬ হাজার ৩ শত ৪৭ টি অতি দারিদ্র পরিবার ব্রাকের কর্মকর্তারা দারিদ্র দূরিকরনের কাজ করছে।

এছাড়া ২০১৯ সালে জেলার আরো ৭ টি উপজেলার ২ হাজার ৪ শত ১৭টি অতি দরিদ্র পরিবার ব্রাকের এই কর্মসূচিতে অংশ গ্রহন করেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here