যৌতুকের টাকা না দেয়ায় বিজিবি সদস্য আল আমিন কর্তৃক ৬ মাসের অন্ত: সত্বা স্ত্রী মহিমা খানম (২০) কে নির্যাতন করে বাম চোখ নষ্ট করে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় বোরহানউদ্দিন থানায় অভিযোগ দিলে বুধবার রাতেই থানা পুলিশ ওই বিজিবি সদস্যকে আটক করেন। আটককৃত বিজিবি সদস্য আল আমিন বোরহানউদ্দিন উপজেলার সাচড়া ৩নং ওয়ার্ডের দেউলা শিবপুর গ্রামের হেলালউদ্দিন এর ছেলে।

লালমোহন উপজেলার বগীর চর ১নং ওয়ার্ডের মহিমা খানম অভিযোগ করে বলেন, গত ২ বছর পূর্বে পারিবারিক ভাবে বোরহানউদ্দিন উপজেলার সাচড়া ৩নং ওয়ার্ডের দেউলা শিবপুর গ্রামের হেলালউদ্দিন এর ছেলে বিজিবি সদস্য আল আমিন এর কাছে পারিবারিক ভাবে বিবাহ হয়।

বিবাহের সময় এবং বিবাহের পর হতে গত ২ বছরের প্রায় ১০ লক্ষ টাকা যৌতুক নেয়। যখনই তার দাবীকৃত যৌতুকের টাকা আমার বাবা দিতে না পারতেন তখনই শারীরিক ভাবে অনেক নির্যাতন করতেন আমার স্বামী। কান্না কাটি করে বাবাকে বললে বাবা আমার তাকে টাকা দিতেন।

১০ মাস পর দিনাপুর হতে স্বামী’র বাড়ীতে আমি আসলে বুধবার বাবা আমাকে দেখতে যান এবং আমাকে বাড়ীতে আনতে যান। কিন্তু আমার স্বামী তার যাওয়ার ভাড়ার ১০ হাজার টাকা দাবী করেন। ওই টাকা আমার বাবা দিতে না পারায় আমার বাবার সামনে আমাকে বেদম মারধর করে বাম চোখ নষ্ট করে দেয়।

৬ মাসের অন্ত:সত্বা আমি। এ অবস্থায় আমাকে অমানবিক নির্যাতন করে। আমি বোরহানউদ্দিন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছি। আমার স্বামী’র বিরুদ্ধে অভিযোগ দিলে রাতেই বোরহানউদ্দিন থানা পুলিশ আমার স্বামীকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন। আমি ওর উপযুক্ত বিচার চাই। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। সে এখন দিনাজপুর হতে ফেনীতে বদলী হয়ে ফেনীতে কর্মরত রয়েছে। ওর বিজিবি সিপাহী সদস্য নাম্বার ১০০৪১৮।

মেয়ের মা নারগিছ আক্তার বলেন, মেয়েটিকে বিয়ের সময় থেকে শুরু করে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা দিছি। কিন্তু জামাই বিজিবিতে চাকুরী করায় ক্ষমতার বলে প্রায়ই আমার মেয়েটিকে অমানবিক নির্যাতন করতেন। এর পূর্বে বিজিবিতে আমরা মেয়ের নির্যাতনের অভিযোগ দিলে ওর সার্ভিস বুকে বিজিবি কর্তৃপক্ষ লিখে দিয়েছে যদি তার স্ত্রীকে আর নির্যাতন করে তাহলে তাকে চাকুরীচুত করবে।

ও কাউকে মানে না আমার স্বামী’র মেয়েটিকে আনতে গেছে স্বামী’র সামনে মেয়েটিকে টাকার জন্য অমানবিক নির্যাতন করে। আমার মেয়ের বাম চোখ নষ্ট করে দিয়েছে। আমরা ওর উপযুক্ত বিচার চাই। ওর শাস্তি চাই। এদিকে জানাগেছে, বুধবার রাতে ওই বিজিবি সদস্যকে আটক করলেও অজ্ঞাত কারনে বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা পর্যন্ত এ রির্পোট লেখা পর্যন্ত বোরহানউদ্দিন থানা হেফাজতে রয়েছে।

তবে অভিযোগ উঠছে একটি মহল ওই বিজিবি সদস্যকে থানা হতে ছাড়িয়ে নেয়ার পায়তারা করছে।এব্যাপারে বোরহানউদ্দিন থানার অফিসার ইন-চার্জ মো. মাজহারুল আমিন এর সাথে আলাপ করার চেষ্টা করলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।

এব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (লালমোহন সার্কেল) মো. রাসেলুর রহমান এর সাথে আলাপকালে তিনি জানান, স্ত্রীকে নির্যাতনের ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। স্ত্রীকে নির্যাতনকারী বিজিবি সদস্য কে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here