রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষককে ‘সর্বহারা’ পরিচয়ে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই দুজন হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. মোতাছিম বিল্যাহ এবং সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও আমীর আলী হলের প্রাধ্যক্ষ মো. আমিনুল ইসলাম। তাদের গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রায় একই সময়ে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলে তাঁরা অভিযোগ করেছেন।

সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. আমিনুল ইসলাম কাছে দাবি করেন, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে মুঠোফোনে ‘মতিন’ নামের এক ব্যক্তি নিজেকে ‘সর্বহারা’ বলে পরিচয় দেন। ফোনে ওই ব্যক্তি তাঁকে যেকোনো সময় অপহরণ করে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেন। এর আগে ১৫ থেকে ২০ দিন আগে ১০-১২ জন ব্যক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভোস্ট বাংলোয় গিয়ে তাঁকে ‘হত্যার হুমকির’ কথা প্রহরীর কাছে বলে যায়। ওই ঘটনার ৪-৫ দিন পর তিনি বিষয়টি জানতে পারেন। গতকাল শুক্রবার সকালে তিনি মতিহার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

আমিনুল ইসলাম দাবি করেন, এর আগে ২০১৫ সালের মে মাসে চরমপন্থী পরিচয়ে এক ব্যক্তি তাঁর কাছে এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন। চাঁদা না দিলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়। এ ঘটনায় তিনি মতিহার থানায় জিডি করেছিলেন। তবে পুলিশ সে ব্যাপারে কখনো খোঁজখবর নেয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ‘আমাকে হুমকি দেওয়ার কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছি না। আমি তেমন কোনো বিত্তবানও না। ব্যক্তিগতভাবেও কোনো শত্রু আছে বলে মনে হয় না।’

‘হত্যার হুমকি’ পাওয়া অপর শিক্ষক মো. মোতাছিম বিল্যাহ বলেন, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে এক ব্যক্তি তাঁকে মুঠোফোনে প্রাণনাশের হুমকি দেন। সমঝোতার জন্য টাকা দাবি করলেও তিনি এতে রাজি হননি। ওই দিন রাতে তিনি মতিহার থানায় একটি জিডি করেন। তিনি বলেন, ‘এখন তো সর্বহারা নেই। কোনো দুষ্কৃতকারী গোষ্ঠী হুমকি দিয়ে থাকতে পারে বলে মনে হচ্ছে।’

শিক্ষকদের হত্যার হুমকির বিষয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মো. লুৎফর রহমান বলেন, ‘তাঁরা আমাকে মুঠোফোনে অনানুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি জানিয়েছেন। আগামীকাল রোববার একাডেমিক কাউন্সিলের বৈঠক শেষে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানাতে চেয়েছেন। সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

এ বিষয়ে মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহাদৎ হোসেন বলেন, ‘জিডি পেয়েছি। এ বিষয়ে কাজ চলছে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here