ভারতের উড়িষ্যার উপকূলে সকালেই আছড়ে পড়েছে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ইয়াস। এর পর থেকেই শক্তি হারাতে শুরু করেছে ঘূর্ণিঝড়টি।

ধারণা করা হচ্ছিল, এটি অতি প্রবল থেকে শক্তি হারিয়ে প্রবল না হলেও ঘূর্ণিঝড় রাতে ঝাড়খাণ্ড পর্যন্ত তাণ্ডব চালাবে। তবে ভারতের আবহাওয়া অফিসের সবশেষ তথ্য বলছে, বুধবার (২৬ মে) ভারতীয় সময় রাত সাড়ে ১১টা (বাংলাদেশ সময় বুধবার দিবাগত রাত ১২টা) নাগাদ ঘূর্ণিঝড় থেকে এটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হবে। এর মাধ্যমেই জীবনাবসান ঘটবে ইয়াসের।

বঙ্গোপসাগরে অতি গভীর নিম্নচাপ থেকে ঘূর্ণিঝড় হিসেবে জন্ম নেওয়ার ৬৩ ঘণ্টার মাথায় এর মৃত্যু ঘটছে।

বুধবার সন্ধ্যায় আনন্দবাজার অনলাইনের খবরে ভারতীয় আবহাওয়ার অফিসের তথ্যের বরাত দিয়ে এ খবর দেওয়া হয়েছে।

খবরে বলা হয়, সোমবার (২৪ মে) ভারতীয় সময় সকাল সাড়ে ৮টায় (বাংলাদেশ সময় সকাল ৯টা) আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের কাছাকাছি এলাকায় অতি গভীর নিম্নচাপ থেকে ঘূর্ণিঝড় হিসেবে জন্ম নেয় ইয়াস।

ক্রমেই শক্তি সঞ্চয় করে ভারতের উড়িষ্যা ও পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের খুলনা উপকূলের দিকে এগুতে থাকে ঘূর্ণিঝড়টি। বাড়তে থাকে গতি। শেষ পর্যন্ত গতিপথ কিছুটা পরিবর্তন করে বুধবার বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উড়িষ্যা উপকূলে আঘাত হানে ইয়াস।

 

বুধবার সকালে উড়িষ্যা উপকূলে আছড়ে পড়ার সময় ১৫৫ কিলোমিটার পর্যন্ত গতি উঠেছিল ইয়াসের। এরপর দিনভর চলে তাণ্ডব। দিঘা উপকূল ছাড়া সরাসরি ঘূর্ণিঝড়ের খুব একটা প্রভাব দেখা যায়নি পশ্চিমবঙ্গে।

তবে এর প্রভাবে প্রবল বৃষ্টিপাত হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের বেশকিছু জেলায়। ধারণা করা হচ্ছিল, উড়িষ্যাতেই এটি অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় থেকে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে। এরপর রাতে সাধারণ ঘূর্ণিঝড় আকারে পৌঁছে যাবে ঝাড়খাণ্ডে।

তবে ভারতের আবহাওয়া অফিসের তথ্য বলছে, ইয়াস শক্তি হারাচ্ছে অনেক বেশি দ্রুত। ফলে জন্মের ৬৩ ঘণ্টার মাথায় বুধবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে ইয়াস ঘূর্ণিঝড় থেকে ফের অতি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে যাচ্ছে।

ঝাড়খাণ্ডে তাই ঘূর্ণিঝড় ইয়াস আঘাত হানতে পারবে না। নিম্নচাপের প্রভাবে সেখানেও হবে প্রচুর বৃষ্টিপাত। উড়িষ্যাতেই মৃত্যু হবে ইয়াসের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here