বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিমে) হাসপাতালে প্রতিনিয়ত বাড়ছে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। গত দুই সপ্তাহে চিকিৎসা নিয়ে বেশ কয়েকজন রোগী বাড়ি ফিরলেও এখনও ভর্তি রয়েছেন ২৪ জন। হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা কোন ইউনিট না থাকায় চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।এদিকে আজ ভোর রাতে ডেঙ্গু আক্রান্ত ২ রোগীর মৃত্যুতে আরো উদ্বেগ উৎকন্ঠার সৃষ্টি হয়।

আক্রান্তদের শেবাচিমের মেডিসিন বিভাগে অন্যান্য রোগীদের সাথে রেখে চিকিৎসা দেওয়ায় এই রোগ ছড়ানোর আশঙ্কা করছেন অনেকে। অবশ্য সেখানে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের মশারির অভ্যন্তরে রাখায় রোগ ছড়ানোর আশঙ্কা অনেকাংশে কম বলে দাবি করেছেন চিকিৎসকেরা।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দাবি, হাসপাতালে ৫’শ আসনের বিপরীতে ১৫শ’র বেশি রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই কারণে অনেকে রোগীকে বেডে রাখা যাচ্ছে না। তদুপরি ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ায় এখন হিমশিম খেতে হচ্ছে। ফলে মেডিসিন পুরুষ ও নারী ওয়ার্ডেগুলো ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়- গত দুই সপ্তাহে ডেঙ্গু আক্রান্ত ৩৭রোগী চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। বর্তমানে এই রোগে আক্রান্ত ২৪রোগী ভর্তি রয়েছেন। সর্বশেষ জ্বরে আক্রান্ত শতাধিক রোগী হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছেন। কিন্তু তাদের মধ্যে কেউ ডেঙ্গু আক্রান্ত রয়েছেন কীনা সেই বিষয়টি পরীক্ষা নিরীক্ষার আগে নিশ্চিত হতে পারছে না মেডিকেল কর্তৃপক্ষ।

বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. বাকির হোসেন জানান, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের অধিকাংশ রাজধানী ঢাকা থেকে আগত। দুই সপ্তাহে চিকিৎসা দিয়ে ৩৭ জনকে সুস্থ করে তোলা হয়েছে। বর্তমানে চিকিৎসাধীন ২৪ জনকে সেবা দেওয়া হচ্ছে। তবে তাদের মধ্যে দুইজন রয়েছেন খুবই আশঙ্কাজনক।

এই রোগীর সংখ্যা প্রতিদিন বৃদ্ধি পাওয়ায় তিনিও শিকার করেছেন হিমশিম খাওয়ার বিষয়টি। তবে এই রোগীরে চিকিৎসা দেওয়ার মত সকল উপকরণ শেবাচিমে রয়েছে বলে দাবি করেন ডা. বাকির হোসেন।

এদিকে সোমবার থেকে শেবাচিম হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের বিনামূল্যে পরীক্ষা করানো হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here