১৫ দফা দাবিতে পীর সাহেব চরমোনাই ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ শুক্রবার (২০ মে) ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর বরিশালের বঙ্গবন্ধু উদ্যানে বরিশাল বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশে দলের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম শায়খে চরমোনাই’র সভাপতিত্ব করেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর সমাবেশ স্থল মানুষের উপস্থিতিতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। সমাবেশ শুরু হওয়ার নির্ধারিত সময়ের আগেই বঙ্গবন্ধু উদ্যান জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

চরমোনাই পীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম সরকারের সমালোচনা করে বলেন, নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়িয়ে মেগা প্রজেক্টের নামে ক্ষমতাশীনরা হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করছে।

১১৬ জন আলেম ওলামাকে বিতর্কিত করে ইসলামকেই হেয় করছে, দাবী করে পাঠ্যপুস্তক থেকে ইসলামি শিক্ষা বাদ দেবার সরকার পায়তারা চালাচ্ছে। তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই সংসদ ভেঙে সব রাজনৈতিক দলের মতামতে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করতে হবে।

পরবর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের আগ পর্যন্ত সশস্ত্রবাহিনী মোতায়েনসহ জাতীয় নির্বাচনের দিন সশস্ত্র বাহিনীর হাতে বিচারিক ক্ষমতা প্রদান ও ইভিএমে ব্যবহার করা যাবে না বলে দাবী করা হয় সমাবেশে।

বরিশাল বিভাগীয় সমাবেশে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম
পীর সাহেব চরমোনাই ঘোষিত ১৫ দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো নিচে তুরে ধরা হলো।

 

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম
পীর সাহেব চরমোনাই ঘোষিত ১৫ দফা দাবি তুলে ধরেন

১. যেকোন মূল্যে দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতি রোধ করতে হবে।বাজার কারসাজীর সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
২. দেশে মদ ও সকল ধরণের মাদকদ্রব্য নিষিদ্ধ করতে হবে।
৩. শিক্ষার সকল স্তরে ধর্মীয় শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করতে হবে। পূর্ণ ও আবশ্যিক বিষয় হিসেবে গণ্য করতে হবে।
৪. প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মুসলিম শিশুদের জন্য নামাজ শিক্ষা ও কোরআন শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করতে হবে।
৫. শিক্ষা সিলেবাস থেকে চরম নাস্তিকক্যবাদী সকল ধর্মবিরোধী, অবৈজ্ঞানিক ও বস্তাপঁচা ডারউইনের থিউরি বাদ দিতে হবে। কারান্তরীণ সকল মজলুম আলেম এবং রাজবন্দিদের মুক্তি দিতে হবে।
৬. জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পূর্বে জাতীয় সংসদ ভেঙ্গে দিতে হবে।
৮. সকল নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মতামত নিয়ে নির্বাচনকালীন জাতীয় সরকার গঠন করতে হবে।
৯. তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পূর্ব পর্যন্ত সশস্ত্রবাহিনী মোতায়েন করতে হবে এবং নির্বাচনের দিন সশস্ত্রবাহিনীর হাতে বিচারিক ক্ষমতা দিতে হবে।
১০.নির্বাচনে সকল দলের জন্য সমান সুযোগ তৈরি করতে হবে। রেডিও, টিভিসহ সকল সরকারি বেসরকারি গণমাধ্যমে সবাইকে সমান সুযোগ দিতে হবে এবং রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে সকল ধরণের হয়রানী বন্ধ করতে হবে।
১১. দুর্নীতিবাজদেরকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করতে হবে।
১২. নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার বন্ধ রাখতে হবে।
১৩. রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, জাতীয় সংহতি ও কার্যকর সংসদ প্রতিষ্ঠায় জাতীয় নির্বাচনে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতির (চ.জ) নির্বাচন ব্যবস্থা প্রবর্তন করতে হবে।
১৪. গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে প্রণীত বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করতে হবে
১৫.সকল রাজনৈতিক দলের জন্যে সভা-সমাবেশসহ সাংবিধানিক স্বীকৃত সকল রাজনৈতিক কর্মসূচি ও বাকস্বাধীনতা উন্মুক্ত করতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here