শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুর্ণীতির প্রভাব বিস্তার রোধ ও শিক্ষকদের শৃঙ্খলায় রাখতে ২০১৮ সালে বেসরকারি শিক্ষক বদলির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার। কিন্তু, নীতিমালা তৈরি না হওয়ায় তা বাস্তবায়ন শুরু করা যায়নি। তবে, শেষ পর্যন্ত নীতিমালা তৈরির কাজ শুরু করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ। শিগগিরই একটি নীতিমালা প্রস্তুত করে তা চূড়ান্ত করা হবে। প্রস্তাবিত নীতিমালায় শিক্ষক বদলির ব্যবস্থা রাখা হবে অনলাইনে। ২০২০ সাল থেকে বদলি কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (বেসরকারি মাধ্যমিক) জাবেদ আহমেদ বলেন, ‘বেসরকারি শিক্ষক বদলির জন্য নীতিমালা তৈরি করা হবে। প্রস্তাবিত নীতিমালায় শিক্ষকদের বদলি করা হবে অনলাইনে। অনলাইনে বদলির জন্য একটি আলাদা সফটওয়ার তৈরি করতে হবে।  মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর শিক্ষক বদলি কার্যক্রম পরিচালনা করবে। প্রস্তাবিত নীতিমালায় এসব বিষয় রাখা হচ্ছে। তবে নীতিমালা চূড়ান্ত করবে মন্ত্রণালয়। চূড়ান্ত হলে বদলি কার্যক্রম শুরু হবে।’

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের যুগ্মসচিব (বেসরকারি মাধ্যমিক) সালমা জাহান বলেন, ‘নীতিমালা প্রস্তুত করে ২০২০ সালের মধ্যেই বদলি কার্যক্রম শুরু করা যাবে বলে আমরা মনে করছি।’
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এ বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (বেসরকারি মাধ্যমিক) জাবেদ আহমেদের সভাপতিত্বে ২০১৮ সালের জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা সংশোধন সংক্রান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে শিক্ষক বদলির বিষয়ে নীতিমালা সংক্রান্ত বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় অনলাইন সিস্টেমে শিক্ষক-কর্মচারী বদলি করা হবে।

শিক্ষক বদলির বিষয়ে ২০১৮ সালের জনবল কাঠামো এবং এমপিও নীতিমালায় বলা হয়েছে— সরকার এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রয়োজনবোধে নীতিমালা প্রণয়ন করে এক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে বদলি করতে পারবেন। এই নীতিমালার আলোকে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কর্মচারীদের বদলি করার জন্য নীতিমালা তৈরি করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সরকারি হাই স্কুল এবং কলেজ শিক্ষকদের বদলির নীতিমালায় কোনও শিক্ষক তিন বছরের বেশি একই কর্মস্থলে থাকতে পারবেন না।  তবে বেসরকারি শিক্ষক বদলি নীতিমালা খানিকটা শিথিল করা হবে শিক্ষকদের সুবিধার জন্য। সরকারি হাইস্কুল ও কলেজ শিক্ষকদের বদলির নীতিমালা অনুসরণ করেই নীতিমালার খসড়া করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত সচিব জাবেদ আহমেদ বলেন, ‘প্রস্তাবিত নীতিমালায় শিক্ষকদের সুবিধা বিবেচনা করে বদলি করার কথা থাকবে। কমপক্ষে এক বছরের আগে কাউকে বদলি করা যাবে না এমন প্রস্তাব করা হবে।’ তবে এখন সবই প্রাথমিক প্রস্তাব কোনও কিছুই চূড়ান্ত হয়নি।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এ মাসে আরও একবার বৈঠক হবে। সরকারি হাইস্কুল ও কলেজ শিক্ষকদের বদলির নীতিমালা অনুসরণ করে খসড়া তৈরি হচ্ছে। চূড়ান্ত করে জারি করবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, অনলাইনে এমপিওভুক্তির আবেদন গ্রহণ করা হয় প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টসহ। একইভাবে শিক্ষক বদলিও হবে অনলাইনে আবেদন করে। এজন্য একটি আলাদা সফটওয়্যার করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হবে। এই সফটওয়্যার মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের ইলেক্ট্রনিক ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমের (ইএমআইএস) মাধ্যমে কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালতি হবে।  যদিও বিষয়টি কারিগরি সক্ষমতা বিবেচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। নীতিমালায় এ বিষয়ে একটি গাইডলাইন থাকতে পারে বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

বৈঠক সূ্ত্রে জানা গেছে, বেসরকারি শিক্ষক বদলি কার্যক্রম চালু হলে তদবির ও বাণিজ্য শুরু হতে পারে। সে কারণে শুরু থেকে অনলাইনে বদলি কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here